জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধ ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগসহ ৩ দাবি রাশেদ খানের

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় সরকারের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়েছে দলটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান।

শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে মিছিলের আগে সমাবেশ থেকে এ দাবি জানান তিনি।

তিন দফা দাবি হলো—আজকের মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ ও আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জাতীয় পার্টির রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।

এ সময় রাশেদ অভিযোগ করে বলেন, নুরকে হত্যার উদ্দেশে তাকে বুটজুতা দিয়ে পেষা হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) অনেকে বলেছেন আমরা নাকি জাতীয় পার্টির কার্যালয়ের গিয়েছিলাম, সে জন্য মেরেছে। অথচ আমরা সেখান থেকে আমাদের কার্যালয়ের সামনে আসার পরই নুরসহ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা হয়েছে। হামলায় জড়িত সেনাবাহিনীর সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।

নুরকে হত্যার মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী নির্দয়ভাবে পেটানো হয়েছে উল্লেখ করে পুলিশ ও প্রতিরক্ষা সংস্কার কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।

রাশেদ আরও বলেন, নুরের ওপর হামলার ঘটনাকে অনেকে নির্বাচন পেছানোর অজুহাত হিসেবে দেখছেন। আমরা মনে করি এর সঙ্গে নির্বাচন বানচাল বা এক এগারো হওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

নুরের খোঁজ নেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জানান তিনি।

সমাবেশে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

রাশেদ ছাড়াও গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—সিনিয়র সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, হাসান আল মামুন, উচ্চতর পরিষদ সদস্য আব্দুল জাহেদ, শ্রমিক অধিকার পরিষদ সভাপতি আব্দুর রহমান ও নুরুল হক নুরের ছোট ভাই আমিনুল হক নুরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

অন্যান্য দলের নেতাদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন—ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদীন শিশির, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একাংশের চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জেএসডির সাধারণ শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন প্রমুখ। তবে ঘোষণা থাকলেও সমাবেশে অংশগ্রহণ করেননি বিএনপি ও জামায়াতের কোনও নেতা।

যা বললেন অন্যান্য দলের নেতারা

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, আওয়ামী লীগের মতো জাতীয় পার্টি ও একই দোষে দোষী। ১৪ দলের বৈঠক থেকেই শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি করার সিদ্ধান্ত হয়। তাই তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে। জি এম কাদের একজন রাষ্ট্রদ্রোহী। তাকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।

এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ বলেন, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার না করলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে। যারা হাসিনার অধীনে নির্বাচনে গেছেন, এবার তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে না।

জাগপার একাংশের সভাপতি খন্দকার লুৎফর রহমান বলেন, নুরের ওপর হামলাকারী কারা তা সরকারকেই চিহ্নিত করতে হবে।

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহিদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন বলেন, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ নয়, প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নুর বিগত সরকারের সময় রক্ত ঝরিয়েছে। ড্রয়িং রুমের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রে নুরের ওপর হামলা করা হয়েছে। দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে শুরু হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে।