গৃহবধূর শয়নকক্ষের জানালা দিয়ে গোপনে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ;আটক এক

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

যশোরের কেশবপুরে এক গৃহবধূর শয়নকক্ষের জানালার ফাঁক দিয়ে গোপনে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগে খলিলুর রহমান নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী সাহস করে মামলা করার পর পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করে সোমবার রাতে।

উপজেলার নতুন মুলগ্রাম বাজারে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় অপরাধকর্মে ব্যবহৃত স্মার্টফোন ও ধারণকৃত অশ্লীল ভিডিও।

গ্রেপ্তার খলিলুর রহমান উপজেলার জাহানপুর গ্রামের আব্দুল করিম সরদারের ছেলে।

থানা সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ওই গৃহবধূর শয়নকক্ষের জানালার ফাঁক দিয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তি গোপনে নগ্ন ছবি ও ভিডিও ধারণ করে। ঘটনাটি ভুক্তভোগী টের পেলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে অভিযুক্ত। তবে যাওয়ার আগে রেখে যায় একটি চিরকুট। সেখানে লেখা ছিল একটি মোবাইল নম্বর। পরবর্তীতে ওই নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। এরপর বিভিন্ন মাধ্যমে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে শুরু হয় চাঁদাবাজির চেষ্টা।

অপ্রত্যাশিত এ ঘটনায় আতঙ্কে পড়ে যান ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার। দীর্ঘক্ষণ ভেবেচিন্তে তিনি সাহস করে থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) কেশবপুর থানায় তিনি পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-২)।

মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দ্রুত অভিযুক্ত খলিলুর রহমানকে শনাক্ত করে। পরে সোমবার রাতেই কেশবপুরের নতুন মুলগ্রাম বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় অপরাধে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও ধারণকৃত ভিডিওচিত্র।

কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আসামিকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে মোবাইল ফোন ও ধারণকৃত ভিডিও। মঙ্গলবার সকালে খলিলুরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”

স্থানীয়ভাবে এ ঘটনা আলোচনার ঝড় তুলেছে। বিশেষ করে ভুক্তভোগী নারীর সাহসিকতার প্রশংসা করছেন অনেকে। তারা বলছেন, সমাজে এ ধরনের অপরাধকে দমন করতে হলে প্রত্যেক ভুক্তভোগীকেই এমন সাহসী উদ্যোগ নিতে হবে।