স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিটকারী নারী প্রার্থীকে ‘গণধর্ষণের’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ওঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আলী হুসেনের বিরুদ্ধে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে মিছিল নিয়ে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে যান তারা। এরপর সেখানেই অবস্থান নেন তারা।
বিক্ষোভ মিছিলে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ‘এসো ভাই, এসো বোন, গড়ে তুলি অঙ্গীকার’, ‘আলী হুসেনের ছাত্রত্ব, বাতিল করো করতে হবে’, ‘নিপীড়কের ঠিকানা, এই ক্যাম্পাসে হবে না’সহ নানা ধরনের স্লোগান দেন।
জিএস প্রার্থী শেখ তানভীর বারী হামিম বলেন, নারী শিক্ষার্থীদের ভোটদানে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। ইসলামের নাম ধরে একটি সংগঠন নারীদের নিরাপত্তার কথা বলে, অথচ তারাই নারীদেরকে হেনস্তা করে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ডাকসু নির্বাচনকে পেছাতে ফাঁকফোকর রেখেছে। আলী হুসেনের বিরুদ্ধে প্রশাসন এখনো ব্যবস্থা নেয়নি। যারা জাতীয় নির্বাচন ও ডাকসু পেছাতে ষড়যন্ত্র করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের লাল কার্ড দেখাবে।
রোকেয়া হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক শ্রাবণী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী অন্য আরেকজন শিক্ষার্থীকে প্রকাশ্যে গণধর্ষণের হুমকি দিতে পারে না। রাজনীতিতে নারীদের নিরাপদ করে তুলতে হবে।
শামসুন্নাহার হল শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক বিথি হাসান বলেন, রাজনীতিতে নারীরা সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছে। একটা গোষ্ঠী আমাদের আটকে রাখতে চায়। ডাকসুতে নারী শিক্ষার্থীরা কম অংশগ্রহণ করেছেন। আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
আলী হোসেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের আবাসিক শিক্ষার্থী। তিনি ফেসবুক পোস্টে লেখেন, ‘হাইকোর্টের বিপক্ষে এখন আন্দোলন না করে আগে একে গণধর্ষণের পদযাত্রা করা উচিত।’ পরে অবশ্য তিনি একটি ভিডিও বার্তায় ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন দাবি করেছেন।
তবে তার ফেসবুকের আগের পোস্টগুলোতে জামায়াতের কর্মসূচিতে অংশ নিতে দেখা গেছে। সেসময় তিনি ফেসবুক কমেন্টে নিজেকে শিবির সমর্থক বলে পরিচয় দিয়েছেন। তবে শিবিরের দাবি, আলী হোসেন শিবিরের কোনো সমর্থক নন। তিনি একেক সময় একেক দলের কর্মসূচিতে যোগ দেন।






