মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে: মান্না

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের ১৩ মাস পার হলেও ঐকমত্যের ভিত্তিতে জুলাই সনদ প্রণয়ন করতে না পারায় দেশ এখনও নির্বাচনমুখী হতে পারেনি। দেশের মানুষ একটি প্রভাবমুক্ত ও মানসম্মত নির্বাচন চায়, অথচ বাস্তবে মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে হতাশা বিরাজ করছে।’

রবিবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে গণশক্তি আয়োজিত ‘জুলাই সনদ ও নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

নাগরিক ঐক্যের সভাপতি বলেন, ‘ঐকমত্য কমিশনের আলোচনায় অনেক বিষয়ে মতৈক্য হলেও বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে এখনও মতানৈক্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে, পিআর (আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা শেষ হয়নি। কমিশনের আহ্বানে মাসব্যাপী আলোচনা চলছে। কিন্তু শুধু সরকার নয়, সব রাজনৈতিক দলকেই এখন স্পষ্টভাবে বলতে হবে যে তারা নির্বাচন চায়। আমাদের ভোটকে হতে হবে গুণসম্পন্ন ও মানসম্পন্ন। জুলাই অভ্যুত্থানে যে সাফল্য অর্জিত হয়েছে, তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হতে দেওয়া যাবে না। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ ব্যাপারে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

মান্না বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান থেকে আন্দোলন যে লক্ষ্য নিয়ে শুরু হয়েছিল তা যদি ধাপে ধাপে এগোতে পারত, তাহলে এতগুলো প্রশ্ন তৈরি হতো না। কিন্তু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, সমাধান হয়নি। এজন্য অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের প্রয়োজন ছিল, যা হয়তো সব জটিলতার সমাধান করতে পারেনি। এখন মানুষ প্রত্যাশা করছে জুলাই সনদের ভিত্তিতেই অগ্রগতি হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ নিয়ে এখন বিতর্ক নেই। কিন্তু কেউ কেউ বলছে সংবিধানের বাইরে গিয়ে কিছু করা যাবে না। আবার আপনারা বলছেন সনদের গ্যারান্টি চাই। এখন এই সমস্যার সমাধান আমি একা কীভাবে দেব? আমার কথায় কিছুই হবে না। বিএনপি-জামায়াত একসঙ্গে বললে ওজন পেত, কিন্তু আমি একা বললে সেটা চলবে না।’

মান্না সতর্ক করে বলেন, ‘অস্থির হয়ে কিছু করতে গেলে বড় ধরনের বিপর্যয় হতে পারে। আজকে যদি দুই-তিনটা দল বলে জুলাই সনদ ছাড়া ভোট হবে না, আর কেউ বলে আমি এর মধ্যে নেই, তখন কী হবে? সরকার কোথায় পাবেন? অনেকে প্রশ্ন করছেন আবার ওয়ান-ইলেভেন হবে কি-না। আমি বলতে পারি না। অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি। তাই সবার মাথা ঠান্ডা রাখা জরুরি।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন সাবেক সচিব ও কূটনৈতিক আব্দুল্লাহ আল মামুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন গণমুক্তি জোটের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. শাহরিয়ার ইফতেখার ফুয়াদ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গণশক্তি সভার সভাপতি সাংবাদিক সাদেক রহমান।