যশোর জেনারেল হাসপাতালে দুদকের ঝটিকা অভিযান, দুর্নীতি ও অনিয়ম ধরা পড়েছে

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email
স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গতকাল, ১৩ সেপ্টেম্বর, একটি আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেছে। দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আল-আমিনের নেতৃত্বে পরিচালিত এই অভিযানে হাসপাতালের একাধিক বিভাগে গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়েছে।
অভিযানের শুরুতে দুদক দল হাসপাতালের রান্নাঘরে প্রবেশ করে। সেখানে তারা রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত খাবারের মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ দেখতে পান। নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি রোগীকে ২০০ গ্রাম ভাত দেওয়ার কথা থাকলেও পরিমাণে তা কম দেওয়া হচ্ছিল। এছাড়া, সকালের নাস্তার জন্য বরাদ্দকৃত পাউরুটির পরিমাণও সঠিক ছিল না। ডিমের আকার ছিল ছোট এবং লবণ, পেঁয়াজ, রসুনের মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। রোগীদের চিকন চালের পরিবর্তে মোটা চালের ভাত এবং মোটা ডাল পরিবেশন করা হচ্ছিল। এই বিষয়ে দুদক তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে।
অভিযানের সময় দুদক দল হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে আরেকটি বড় অনিয়ম দেখতে পান। সেখানে ১৬০ প্যাকেট স্যালাইন মজুত থাকা সত্ত্বেও রোগীদের বাইরের ফার্মেসি থেকে স্যালাইন কিনতে বাধ্য করা হচ্ছিল। এ বিষয়ে ওয়ার্ডের সিনিয়র নার্সের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি “উপরের নির্দেশনা” আছে বলে জানান। দুদক ওই নার্সকে শোকজ করার জন্য অনুরোধ করেছে।
দুদকের দলটি হাসপাতালের প্লাস্টার রুমেও অভিযান চালায়। সেখানে তারা দেখতে পান, যারা প্লাস্টারের কাজ করছেন তারা হাসপাতালের বৈধ কর্মচারী নন। তারা বহিরাগত এবং প্লাস্টারের কাজের জন্য রোগীদের কাছ থেকে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অবৈধভাবে আদায় করছেন। এই বিষয়েও দুদক কর্তৃপক্ষ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ককে অনুরোধ করেছে।
অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ আল-আমিন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ হোসাইন শাফায়াতের কার্যালয়ে যান। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং এর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অনিয়মগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই অভিযানের ফলে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে বলে মনে করা হচ্ছে।