স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
সরকারি রাস্তা ব্যবহার করে ধানের জমিতে ট্র্যাক্টর নেওয়ার জের ধরে যশোরের চৌগাছায় এক ইউপি সদস্যের নেতৃত্বে হামলায় নারীসহ অন্তত ৭ থেকে ৮ জন গ্রামবাসী গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে মোছা. শাপলা খাতুন নামের এক নারীর মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপে ১৪টি এবং তার ভাইপো অমিত হাসানের মাথায় ২৫টি সেলাই দিতে হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় এজাহার দায়ের করা হলেও পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করেনি। উল্টো হামলার শিকার পরিবারটি পুলিশি হয়রানি ও হুমকির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
বুধবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মোছা. শাপলা খাতুন তার পরিবার ও গ্রামবাসীর ওপর হওয়া নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরেন।
তিনি জানান, পাশাপোল ইউনিয়নের হাওলী গ্রামের বাসিন্দা ইউপি সদস্য আলী কদর দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ক্ষমতাশীল দলের নাম ভাঙিয়ে এলাকায় সন্ত্রাস, ভূমি দখল ও অস্ত্রবাজি চালিয়ে আসছিলেন। সম্প্রতি সরকার পরিবর্তনের পর তিনি দ্রুত রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে আবারও সন্ত্রাসী কার্যক্রম শুরু করেন।
শাপলা খাতুনের অভিযোগ, অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আলী কদরকে জরিমানা করার পর তিনি শাপলার পরিবারকে সন্দেহ করতে থাকেন।
গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে শাপলা খাতুনের ৭ বিঘা ধানের জমি চাষের জন্য একটি ট্র্যাক্টর সরকারি রাস্তা দিয়ে আলী কদরের বাড়ির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। এসময় আলী কদর ওই সরকারি রাস্তাকে নিজের দাবি করে তার নেতৃত্বে ইকবাল হোসেন, খাদেমুল ইসলাম, নাজমুল ইসলাম, সেকেন্দার আলী, আদম আলীসহ আরও ৭ থেকে ৮ জন তার স্বামী আব্দুস সালামকে মারধর শুরু করে।
স্বামীকে বাঁচাতে মোছা. শাপলা খাতুন এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা ধারালো দা দিয়ে তার মাথায় কোপ দেয়। এতে তার মাথায় ১৪টি সেলাই দিতে হয়। একই সময়ে তাদের ভাইপো অমিত হাসানকেও এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। তার মাথায় ২৫টি সেলাই পড়েছে।
হামলার শিকার শাপলা খাতুন বলেন, আমি বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা ধারালো দা দিয়ে আমার মাথায় কোপ দেয়। আমার মাথায় ১৪টি সেলাই দিতে হয়েছে।
ঘটনার সময় ৮ থেকে ১০ জন গ্রামবাসী তাদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে আলী কদর মেম্বার ও তার সহযোগীরা তাদেরও মারধর করে এবং অস্ত্র দেখিয়ে গুলি করার হুমকি দেয়। পরে পরিবারের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ঘটনার দুই দিন পর আহত মোছা. শাপলা খাতুনের স্বামী আব্দুস সালাম বাদী হয়ে চৌগাছা থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। সংবাদ সম্মেলনে শাপলা খাতুন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও আজ পর্যন্ত প্রশাসন এ চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এমনকি একজনকেও আটক করা হয়নি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আলী কদর উল্টো তাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেছেন। বর্তমানে পুলিশ ও ওই চক্রের সদস্যরা বিভিন্নভাবে তাদের হয়রানি ও হুমকি দিয়ে চলেছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত গ্রামবাসী মাহবুব আলম, শরিফুল ইসলাম, বাবর আলী, সোহাগ হোসেন, সোহেল রানা, সাইফুল ইসলাম, আরিফ হোসেন এবং জুবাইদা বেগমসহ অনেকে এই হামলার বিচার দাবি করেন।




