যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটিতে কাজী ইনামের অন্তর্ভুক্তি: স্মারকলিপিতে প্রতিবাদ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটিতে কাজী ইনাম আহমেদের অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড়বৃন্দ। মঙ্গলবার সকালে জেলা প্রশাসক ও যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক মোহাম্মদ আজাহারুল ইসলামের কাছে এ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়।

​স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার এডহক কমিটিতে কাজী ইনাম আহমেদকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করায় তাঁরা “হতবাক, মর্মাহত, আশাহত এবং ক্ষুব্ধ।” সংগঠকদের অভিযোগ, বিগত দিনে কাজী ইনাম ক্রীড়া সংস্থার সাথে যুক্ত থাকলেও খেলার উন্নয়ন, খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা এবং মাঠের সার্বিক উন্নয়নে তিনি বাধা সৃষ্টি করেছেন।

​স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, “বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে স্টেডিয়ামে জনসভা করবার কারণে স্টেডিয়ামের গ্যালারি ভাঙা সহ মাঠের প্রচুর পরিমাণে ক্ষয়ক্ষতি উনার মাধ্যমে/প্ররোচনায় করা হয়েছিল।” সংগঠক ও খেলোয়াড়রা প্রশ্ন তুলেছেন, কার সুপারিশে এবং কোন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে কাজী ইনামের নাম কমিটিতে সংযোজন করা হয়েছে। তাদের মতে, কাজী ইনামের অন্তর্ভুক্তিতে জেলা ক্রীড়া সংস্থার বিগত ১৪ বছরের অচলাবস্থা ও জটিলতা আরও বাড়বে। তারা মনে করেন, তিনি কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থে ক্রীড়া সংস্থাকে ব্যবহার করে থাকেন।

​এতে আরও বলা হয়, “বিগত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের আমলে যশোর সংসদীয়-৩ আসনের বিনা ভোটের এমপি কাজী নাবিল আহমেদ উনার ভাই হওয়ার সুবাদে অবৈধ ও অনিরপেক্ষ প্রভাব বিস্তার করে কিছু সুবিধাভোগী, দুর্নীতি পরায়ণ সংগঠককে সাথে নিয়ে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা পাইয়ে দেবার আশ্বাসে ক্রীড়াঙ্গনে মারাত্মকভাবে বিভাজন সৃষ্টি করেছিলেন এবং সর্বক্ষেত্রে একনায়কতন্ত্রের আমল জারি করেছিলেন।” এর ফলে অনেক সংগঠক ও খেলোয়াড় মাঠ বিমুখ হয়ে পড়েছিলেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

​স্মারকলিপির শেষে কাজী ইনাম আহমেদকে অবিলম্বে এডহক কমিটির সদস্য পদ থেকে অপসারণের জন্য জোর দাবি জানানো হয়েছে। স্মারকলিপিতে যশোর জেলার সংগঠকবৃন্দ এবং সাবেক ও বর্তমান খেলোয়াড়বৃন্দের স্বাক্ষর রয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক জাতীয় ফুটবলার সৈয়দ মাশুক মো. সাথী, জেলা দলের সাবেক ক্রিকেটার মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, মোস্তাক নাসির টনি, খান শফিক মো. রতন, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সহ-সভাপতি মির্জা আখিরুজ্জামান সান্টু, সোনালী অতীত ক্লাবের সভাপতি এ বি এম আখতারুজ্জামান, ক্রীড়া সংগঠক হিমাদ্রী সাহা মনি, শহিদ হোসেন লাল বাবু প্রমুখ।

জেলা প্রশাসক আজাহারুল ইসলাম স্মারকলিপি গ্রহণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।