স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরের কেশবপুর উপজেলার ৩ নম্বর মজিদপুর ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক আব্দুল হালিমের লালসায় ভেস্তে যেতে বসেছে বিকাশ মুন্নির সাজানো সংসার। সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও পরকীয়া প্রেম থেকে স্কুল শিক্ষিকা স্ত্রী নাজিমুন নাহার তাপিয়া ওরফে মুন্নি ও যুবলীগ নেতা হালিমকে সরানো যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিকাশ। এ বিষয়ে একাধিকবার পারিবারিক ভাবে মিমাংসা করার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি।
জানা গেছে, পরকীয়া প্রেমিক হালিম ও তার সঙ্গিরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিকাশকে জড়িয়ে সুমাইয়া নদী নামে ফেক আইডি থেকে গুজব ছড়ানোর পর তিনি ওই আইডির নামে সাইবার সিকিউরিটি আইনে মামলা করেন। পরবর্তীতে পুলিশের সাইবার টিম শনাক্ত করে ফেক আইডিটি হালিম ও মুন্নি পরিচালনা করে। আনিসুর রহমান বিকাশ সব কিছু জানার পর একমাত্র ছেলে আরাবির কথা চিন্তা করে ও স্ত্রী মুন্নির এমন কাজ থেকে আগামিতে বিরত থাকবে প্রতিশ্রুতিতে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন।

অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আব্দুল হালিম কেশবপুর উপজেলার প্রতাপপুর গ্রামের হোসেন আলীর ছেলে। এদিকে, নাজিমুন নাহার তাপিয়া ওরফে মুন্নি উপজেলার মেহেরপুর এলাকার নাজিমুদ্দিনের মেয়ে। তিনি কেশবপুর উপজেলার প্রতাপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষিকা।
প্রতাপপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরির করার সুবাধে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য আব্দুল হালিমের সাথে পরিচয় হয় তার।
মুন্নির বর্তমান স্বামী আনিসুর রহমান বিকাশ কুষ্টিয়া জেলার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থানার বিজ্ঞুদিয়া এলাকার মৃত ওয়াজেদ আলীর ছেলে।সরকারি চাকুরির সুবাধে মুন্নি তার বাবার বাড়িতেই থাকেন দীর্ঘদিন।
মুন্নির স্বামী আনিসুর রহমান বিকাশ অভিযোগ করে বলেন, আব্দুল হালিম তার স্ত্রীর সাথে দীর্ঘদিন অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত। এমনকি তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কের কথাও বিকাশকে মেসেজ করে জানিয়েছে হালিম। এছাড়া ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিভিন্ন সময় হুমকি ধামকি দেওয়াসহ বিকাশকে মানসিক ভাবে আঘাত দিয়েছেন। যেন সে মুন্নিকে তালাক দিয়ে দেয়।
বিকাশ আরও জানান, কুষ্টিয়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালিন সময়ে মুন্নির সাথে তার পরিচয় হয়। মুন্নির ঝিনাইদহে একটা ছেলের সাথে আগে বিয়ে হয়েছিলো জেনেও বিকাশ ২০০২ সালে মুন্নিকে ভালোবেসে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং দ্বিতীয় সংসার জীবন শুরু করেন। একটা বাচ্চা হওয়ার পর চাকুরির সুবাধে মুন্নি কেশবপুরে চলে আসেন।
তারপর হালিম নামের ওই যুবলীগ নেতা স্থানীয় প্রভাব ও প্রলোভন দেখিয়ে মুন্নির সাথে অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। হালিমের সংসার থাকার পরও সে মুন্নির সাথে দীর্ঘ দিন যাবদ অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে তার একমাত্র সন্তান আরাবি ও স্ত্রী মুন্নির সাথে দূরন্ত তৈরি হচ্ছে। এমনকি মুন্নি তাকে ডিভোর্স না দিলেও তার সাথে কোনো ধরণের পারিবারিক যোগাযোগ রাখেন না।
এবিষয়ে নাজিমুন নাহার তাপিয়া ওরফে মুন্নির কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হালিম তার বাল্যবেলার বন্ধু। বিকাশের সাথে তার দুই বছর আগে গন্ডগোল হয়েছিলো। এখন তারা সংসার করছেন।
মুন্নির বাবা নাজিমুদ্দিন বলেন, তার মেয়ের সাথে জামাই বিকাশের মনোমালিন্য চলছে। জামাই বিকাশের অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, জামাই মেয়ের সাথে ভালোভাবে কথা বলেন না। তার বাসায় আসলেও খেতে চান না।
এদিকে, অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা আব্দুল হালিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুন্নির সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের আলাদা আলাদা সংসার আছে। এমনকি তিনি নিজেকে উপজেলার একটি সাইনবোর্ড মাত্র সাংবাদিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক এবং একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন।
আনিসুর রহমান বিকাশের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অশোভন শব্দ ব্যবহার করে মুন্নির সাথে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়ে মেসেজ পাঠানোর ঘটনা সত্য কি না জানতে চাইলে হালিম বলেন, বিকাশ তাকে আর মুন্নিকে সন্দেহ করে। তাই রাগের বশবর্তী হয়ে এমন খারাপ শব্দ ব্যবহার করেছেন।







