স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোর শহরে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে যশোর রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন। বুধবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা ২০ মিনিট পর্যন্ত যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এই শান্তিপূর্ণ সমাবেশে প্রায় ৮০০ থেকে ৯০০ শ্রমিক অংশ নেন। সমাবেশ শেষে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তারা বলেন, যশোর ও এর আশেপাশে প্রায় ১১ হাজার ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলে, যার উপর প্রায় ৫০ হাজার অসহায় শ্রমজীবী মানুষ নির্ভরশীল। প্রশাসন কর্তৃক এই যানগুলো বন্ধ করে দিলে এত বিশাল জনগোষ্ঠী বেকার হয়ে পড়বে। এতে তাদের পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে সন্তানদের পড়াশোনা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হবে। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক অবক্ষয়, যেমন চুরি, ছিনতাই এবং মাদকের মতো অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শ্রমিক নেতারা বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে এমনিতেই সাধারণ মানুষ দিশাহারা। তার ওপর এই অভিযান “মরার উপর খাড়ার ঘাঁ”-এর মতো। সামনে দুর্গাপূজা উৎসব। এই সময়ে অভিযান চললে অনেক মেহনতী মানুষ উৎসব পালন থেকে বঞ্চিত হবে। তাঁরা জেলা প্রশাসকের কাছে মানবিক কারণে এই অভিযান আপাতত স্থগিত করার অনুরোধ জানান।
যশোর জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশ শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক খাইরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করেন যশোর শ্রমিক দলের সভাপতি আবু জাফর, যুবশক্তি (এনসিপি)-এর আহ্বায়ক ইমদাদ হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কাজী শহিদুল ইসলাম, শ্রমিক অধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির এবং জামায়াতের শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি রুহুল আমিন। বক্তারা হুঁশিয়ারি দেন, যদি পৌর প্রশাসন এই অভিযান প্রত্যাহার না করে, তাহলে শিগগিরই রিকশা-ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন ধর্মঘট কর্মসূচির ডাক দেবে।







