কাজী ইনাম আহমেদের অপসারণ দাবি, তিন কর্মকর্তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

​যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থায় (জেডিসিএ) চলমান অস্থিরতার জেরে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটি থেকে তৎকালীন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক কাজী ইনাম আহমেদকে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন যশোরের সর্বস্তরের ক্রীড়া সংগঠক ও খেলোয়াড়েরা। একই সাথে, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব খালিদ জাহাঙ্গীর এবং সদস্য এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুনবুরহান উদ্দিনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে আগামীতে ক্রীড়া সংস্থার কোনো কর্মকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ত না করার জন্য জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক মো. আজাহারুল ইসলামের কাছে জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

​রোববার (তারিখ, মাস, বছর) দুপুরে জেলার ক্ষুব্ধ ক্রীড়া সংগঠক এবং খেলোয়াড়েরা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে তাঁর সাথে সাক্ষাৎ শেষে তাদের সুনির্দিষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।

​দুর্নীতির অভিযোগ ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা

​এ বিষয়ে জেলা ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাহতাব নাসির পলাশ সাংবাদিকদের বলেন, “জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব খালিদ জাহাঙ্গীর নিজেই একজন দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তা। তিনি আকণ্ঠ দুর্নীতির সাথে জড়িত এবং মিথ্যাচার ও অনৈতিক বিষয়কে প্রাধান্য দিচ্ছেন।”

​পলাশ আরও অভিযোগ করেন, খালিদ জাহাঙ্গীরের মিথ্যাচার এবং অনৈতিক সহযোগিতায় জেলা ক্রীড়া সংস্থার অ্যাডহক কমিটিতে এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং বুরহান উদ্দিন অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তিনি জানান, বুরহান উদ্দিন ক্রীড়া সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তি নন। অন্যদিকে, এস এম আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তিনি বর্তমানেও ক্রিকেট খেলোয়াড়। মাহতাব নাসির পলাশের মতে, “একজন বর্তমান ক্রিকেট খেলোয়াড় কোনো দিনই কোচ হতে পারে না। অনৈতিক স্খলন হারানো ব্যক্তি যশোরের পবিত্র ক্রীড়াঙ্গণকে অপবিত্র করেছে।”

​খেলাধুলার স্বার্থে আল্টিমেটাম

​খেলোয়াড় ও সংগঠকদের এই দলটি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁরা কোনো ব্যক্তির বিপক্ষে নন, বরং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সকল অনিয়ম এবং অনৈতিকতার বিপক্ষে। সাবেক ক্রিকেটার মাহতাব নাসির পলাশ বলেন, “আমরা সব সময় খেলাধুলার পক্ষে। আমরা চাই অচল অবস্থা কাটিয়ে যশোরের খেলার মাঠ সব সময় খেলাধুলার মাধ্যমে সচল থাকুক।”

​তিনি জোর দিয়ে বলেন, “তাই আগামীতে যশোরের ক্রীড়াঙ্গণের স্বার্থে এই তিনজনকে বাদ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছি। তাদেরকে বাদ দিলে আমরা যশোরের ক্রীড়াঙ্গণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো। তাদেরকে বাদ না দিলে আমরা সর্বাত্মক অসহযোগিতা করবো।”

​জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাতের পর পলাশ জানান, “জেলা প্রশাসক আমাদের কথা আন্তরিক ভাবে শুনেছেন। সেগুলো আমলে নিয়ে আমাদেরকে সাথে নিয়ে যশোরের ক্রীড়াঙ্গণের কার্যক্রম চালানোর আশ্বাস দিয়েছেন।”

​এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক ক্রিকেটার খান মো. শফিক রতন, মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু, মোস্তাক নাসির টনি, সোহেল মাসুদ হাসান টিটো, এম এ আকসাদ সিদ্দিকী শৈবাল, সাবেক ফুটবলার কাজী জামাল, হালিম রেজা, সোনালী অতীত ক্লাব যশোরের সভাপতি এ বি এম আখতারুজ্জামান, ক্রীড়া সংগঠক এজাজ উদ্দিন টিপু প্রমুখ।