স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
‘লড়াই ছাড়া মেহনতি জনতার মুক্তি নাই’— এই বজ্রকণ্ঠ স্লোগানকে সামনে রেখে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) দেশের জাতীয় স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নিয়ে ৭ দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে এই গুরুত্বপূর্ণ দাবি সম্বলিত একটি স্মারকলিপি যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বরাবর পেশ করা হয়।
স্মারকলিপিতে জাগপা জোরালোভাবে উল্লেখ করেছে যে, ঐতিহাসিক ২০২৪ সালের জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের পর যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছিল, জনগণের কাছে তার মূল প্রতিশ্রুতি ছিল— শাসনতান্ত্রিক সংস্কার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং টেকসই গণতন্ত্রের ভিত্তি স্থাপন। তবে, দুঃখজনকভাবে জনগণ এখনো সেই কাঙ্ক্ষিত এবং মৌলিক পরিবর্তন দৃশ্যমান হতে দেখেনি। জাগপার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশ বর্তমানে এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আপামর জনগণের গণআস্থা পুনরুদ্ধারের এক অভূতপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এই সুযোগকে সার্থকভাবে কাজে লাগাতে হলে উত্থাপিত ৭ দফা দাবি দ্রুত এবং কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।
জাগপার সহ-সভাপতি এবং দলের মুখপাত্র রাশেদ প্রধান স্বাক্ষরিত এই স্মারকলিপিতে বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে, জনগণ যে ‘জুলাই সনদ’কে ভিত্তি করে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নিয়েছিল, সেই সনদের ওপর একটি জাতীয় গণভোট আয়োজন এবং এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের আদেশ জারি করা প্রথম ও প্রধানতম দাবি।
একইসঙ্গে, দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত ন্যায়বিচারের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে জাগপা দাবি জানিয়েছে ।তাদের দাবি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অবিলম্বে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারিক প্রক্রিয়া শুরু করা। আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত গণহত্যা, সীমাহীন জুলুম, নির্যাতন এবং ব্যাপক দুর্নীতির বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত ও দৃশ্যমান করা।
জাতীয় স্বাধীনতা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার প্রশ্নে জাগপা তাদের স্মারকলিপিতে কঠোর অবস্থান তুলে ধরেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ আমলে প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত সকল গোপন ও অসম চুক্তি জনসমক্ষে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ এবং অবিলম্বে বাতিল করা। এটি দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় অত্যন্ত জরুরি।রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে জাতীয় পার্টি এবং তথাকথিত ১৪ দলের সকল প্রকার রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।
ভবিষ্যতের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জাগপা একটি মৌলিক সংস্কারের প্রস্তাব করেছে। তাদের দাবি, একটি সুষ্ঠু ও প্রতিনিধিত্বমূলক সংসদীয় কাঠামো নিশ্চিত করার জন্য:
জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষে (যদি থাকে বা ভবিষ্যতে প্রবর্তিত হয়) প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (PR) বা আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে, যা ভোটের যথার্থতা নিশ্চিত করবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো— আসন্ন নির্বাচনে ভারতের প্রভাবমুক্ত পরিবেশ এবং সকল রাজনৈতিক দলের জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করা।
যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এই ঐতিহাসিক স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচিতে দলের উচ্চ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। স্মারকলিপি প্রদানের নেতৃত্ব দেন জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য, খুলনা বিভাগীয় প্রধান সমন্বয়ক এবং যশোর জেলার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নিজামদ্দিন অমিত।
এসময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন দলের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নেতারা, যাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— সহ-সভাপতি বজলু হাওলাদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার জাহিদ হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মধু, প্রচার সম্পাদক শাহজাহান মল্লিক, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাবেদ কাজী, এবং জাগপা নেতা ইকবাল হোসেন, সিরাজুল ইসলাম, সোহানুর রহমান সোহেল, রিজাউল হোসেন, সৌরভ বিশ্বাস, ফয়সাল আহমেদ, হাবিবুর রহমান, শোহানুর ইসলাম শয়ন, বাবলু হোসেন, রিফাত শেখ, মতিউর রহমান মতি, রাজু মোল্লা, কালু হোসেন প্রমুখ।
জাগপার পক্ষ থেকে দৃঢ় প্রত্যয়ে জানানো হয়, এই ৭ দফা দাবি যদি সরকার অবিলম্বে বাস্তবায়ন করে, তবে দেশ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, জনগণের মাঝে হারানো আস্থা ফিরে আসবে, এবং বাংলাদেশ দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক মুক্তির পথে বলিষ্ঠভাবে এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে।
যশোর জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলাম জাগপা নেতাদের কাছ থেকে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন এবং এটি যথাস্থানে প্রেরণের আশ্বাস দেন।







