যশোরে ভৈরবপাড় দখলমুক্ত করতে জেলা প্রশাসন ও পাউবোর যৌথ অভিযান

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

যশোর শহরের গুরুত্বপূর্ণ দড়াটানা এলাকার ভৈরব নদের পাড় (ভৈরবপাড়) দখলমুক্ত করতে এবার কঠোর যৌথ অভিযান শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে সদর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত ইয়াসমিনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে এই অভিযান শুরু হয়। অভিযানে পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে নদীর পাড়ের সীমানা নির্ধারণ ও সুরক্ষিত করা। উচ্ছেদের পাশাপাশি নদীর পাড়ে সীমানা পিলার স্থাপন এবং কাঁটাতার দিয়ে ঘিরে ফেলার কাজও শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এর আগে পৌরসভা থেকে একাধিকবার অভিযান চালানো হলেও দড়াটানার এই অংশ পুরোপুরি দখলমুক্ত করা যায়নি; তবে এবার কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না।

অভিযানের শুরুতে ভৈরব হোটেলের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। একইসঙ্গে ব্রিজের দুই পাশের ফুটপাত ও পাউবোর জায়গায় গড়ে ওঠা অবৈধ ক্ষুদ্র দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে দলটি ভৈরব হোটেলের গা-ঘেঁষে নদীর পাড় এলাকায় যায়। সেখানে দেখা যায়, ভৈরব হোটেলসহ আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতাল সরকারি জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছে। এছাড়া প্রভাবশালী মহলের কেউ কেউ ভৈরবপাড় দখল করে টং দোকান বসিয়ে রেখেছে।

এরপর ভৈরব চত্ত্বরের আশপাশের ফুটপাতের দোকানগুলো উচ্ছেদ করা হয়। বিপরীত দিকে নদীর পাড়ে গড়ে ওঠা রাজধানী হোটেলের সামনের অংশ ও জনি হোটেলের বর্ধিত অংশও ভেঙে দেওয়া হয়। জনি হোটেলকে সরকারি জায়গায় থাকা সিঁড়ি সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ সময় নদীর পাড়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাদের পরিচালিত ফরমালিনমুক্ত সবজি বিক্রির স্টলটিও ভেঙে দেওয়া হয়।

উচ্ছেদের সময় ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই তাদের দোকান ভেঙে দিয়েছে, যার ফলে তাদের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তারা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য পুনর্বাসনেরও দাবি জানান।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “একাধিকবার নোটিশ দেওয়া সত্ত্বেও কেউ কর্ণপাত করেনি। তাই বাধ্য হয়ে জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিযানে নামতে হয়েছে। নদীর পানির অনাবিল প্রশান্তি থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছিল। এখন জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড একসঙ্গে কাজ করছে।”

তিনি আরও জানান, প্রথম ধাপে কাঁটাতার দিয়ে নদীর অংশ ঘিরে ফেলা হবে। পরবর্তীতে সেখানে বৃক্ষরোপণ এবং পৌরবাসীর জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা করার পরিকল্পনা রয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, অভিযান সবেমাত্র শুরু হয়েছে, আগামী সপ্তাহে ভৈরব চত্ত্বরের বিপরীত পাশের নদীর জায়গাগুলোও সার্ভেয়ারের মাধ্যমে মেপে দখলমুক্ত করা হবে। তিনি স্বপ্রণোদিত হয়ে সকলকে নদীর জায়গা ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।