এইচএসসির রেজাল্ট ঘোষণার পর উচ্ছ্বাসহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোর-এর উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষা ফলাফলে নজিরবিহীন ধস নেমেছে। বোর্ডের ইতিহাসে পাসের হার নেমে এসেছে সর্বনিম্ন ৫০.২০ শতাংশে। ফল বিপর্যয়ের প্রভাব এতটাই প্রকট যে, বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশের দিনে বোর্ডের আওতাভুক্ত কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের চিরাচরিত উচ্ছ্বাস দেখা যায়নি। অধিকাংশ ক্যাম্পাস ছিল নীরব ও জনশূন্য।

এ বছরই প্রথমবার পরীক্ষার্থীরা এসএমএস-এর মাধ্যমে মোবাইল ফোনে এবং বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকে ফলাফল জানতে পারছে। বোর্ডের পাঠানো খুদে বার্তার মাধ্যমেই ফল জানার সুযোগ থাকায়, ফল প্রকাশের পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের তেমন দেখা মেলেনি। জেলার সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, সরকারি সিটি কলেজ, সরকারি মহিলা কলেজ, যশোর শিক্ষাবোর্ড স্কুল এন্ড কলেজসহ বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরেও গতানুগতিক উল্লাস বা ভিড় লক্ষ করা যায়নি। ফল খারাপ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মনেও কোনো উচ্ছ্বাস ছিল না বলে মনে করছেন অনেকেই।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, এবছর পড়াশুনা করার যথেষ্ঠ সময় পাওয়া যায়নি। জুলাই আন্দোলনে আমাদের ব্যাচের ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী জড়িত ছিলো। তাছাড়া যশোর বোর্ডে পরীক্ষায় প্রশ্ন পত্র একটু কঠিন হয়েছে। বিশেষ করে ইংরেজি প্রশ্নপত্র জটিল ছিলো।

কাজী নূর নামে এক অভিভাবক বলেন, এবছর বাড়ি বসেই ফলাফল মেসেজের মাধ্যমে জানতে পেরেছে শিক্ষার্থীরা। ফলাফল আশানুরুপ ভালো হয়নি অনেকের। যে কারণে কিছুটা মানসিক কষ্টে ছেলে মেয়েরা প্রতিষ্ঠানে যায়নি। এসময়টা বাচ্চাদের যথেষ্ট মানসিক সাপোর্ট করা প্রয়োজন। অনেক শিক্ষার্থী ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বসে। একটা রেজাল্ট জীবনের গন্তব্য নির্ধারণ করে।

সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ইংরেজি বিভাগের প্রধান সুভাষ চন্দ্র বলেন, শিক্ষার্থীরা বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে যত্নশীল না। এছাড়া তারা যে কোচিং নির্ভর সে কোচিং এ যারা পড়ায় তারাও তেমন বুঝেন না। মুখস্ত বিদ্যা, নোট দেখে পড়ান। যারা এবছর খারাপ করেছে তারা আগামিতে ভালো ফলাফল করবে আশা করি।

এদিন সকালে শিক্ষা বোর্ডের হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার ফল প্রকাশ করেন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ আসমা বেগম। তিনি জানান, এবার যশোর শিক্ষা বোর্ডে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৫৭৪ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, যার মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ৫৬ হাজার ৫০৯ জন।

এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে বোর্ডের কর্মকর্তারা ইংরেজি বিষয়ের খারাপ ফলকে চিহ্নিত করেছেন। এবছর ইংরেজি বিষয়ে অকৃতকার্যের হার ৪৬ শতাংশ। যা সামগ্রিক পাসের হারকে বড় ধাক্কা দিয়েছে। শিক্ষকরা বলছেন, ছাত্রছাত্রীদের বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে প্রয়োজনীয় মনোযোগ না থাকাটাই এমন ভয়াবহ ফলের কারণ।
যশোর বোর্ডে এই পাসের হার গত তিন বছরের রেকর্ড ভেঙে সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে এসেছে। শিক্ষাবোর্ড সূত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালে এ বোর্ডের পাসের হার ছিল ৮৩.৯৫ শতাংশ, ২০২৩ সালে ৬৯.৮৮ শতাংশ এবং ২০২৪ সালে ৬৪.২৯ শতাংশ।

ফল খারাপ হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মাৎ আসমা বেগম জানান, শিক্ষার্থীরা গত জুলাই মাসের আন্দোলনের কারণে পর্যাপ্ত পড়াশোনার সময় সুযোগ পায়নি। এ ছাড়া চলতি বছরে সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যে কারণে বিগত বছরগুলোর তুলনায় ফলাফল কিছুটা খারাপ হয়েছে।