মাদ্রাসায় না এসেও নিয়মিত বেতন-ভাতা তুলছেন অধ্যক্ষ!

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার ৬নং ঝিকরগাছা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর ছিদ্দিকীয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, তিনি মাদ্রাসায় নিয়মিত উপস্থিত না থেকেও হাজিরা খাতায় নিয়মিত সই দেখিয়ে মাসের পর মাস বেতন-ভাতা তুলে নিচ্ছেন। অভিযুক্ত অধ্যক্ষ একই ইউনিয়নের লাউজানী গ্রামের বাসিন্দা।

মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাক ১৯৮৭ সালের ১লা জানুয়ারি উক্ত মাদ্রাসায় যোগদান করেন, যা ১৯৭৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। জানা গেছে, তিনি বিভিন্ন সময়ে অসুস্থ্যতার কথা বলে সপ্তাহে মাত্র ১/২ দিন মাদ্রাসায় উপস্থিত হন এবং পুরো সপ্তাহের হাজিরা খাতায় সই করে নিয়মিতভাবে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সরেজমিনে অধ্যক্ষের অফিস কক্ষ বা চেয়ার ফাঁকা দেখা যায়। রবিবার (২৬ অক্টোবর) তিনি ক্ষণিকের জন্য উপস্থিত হলেও মাদ্রাসার হাজিরা খাতায় অধ্যক্ষের সইয়ের স্থান পরপর তিন কর্মদিবস ফাঁকা ছিল।

ওই সময় মাদ্রাসায় অলিখিতভাবে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে এটিএম আব্দুল আহাদকে দেখতে পাওয়া যায়। অধ্যক্ষের অনুপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অধ্যক্ষ আসেননি, তিনি অসুস্থ। তবে অধ্যক্ষের অসুস্থতাজনিত কোনো ছুটির আবেদন জমা আছে কি না, জানতে চাইলে তিনি জানান, “আমার নিকট অধ্যক্ষের ছুটি সংক্রান্ত কোনো আবেদন জমা নাই।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষক জানান, অধ্যক্ষ প্রায় সময় অসুস্থতার কথা বলে ঠিকমতো মাদ্রাসায় আসেন না। তবে সপ্তাহে ১/২ দিন উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় পুরো সপ্তাহের সই করে যান।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আব্দুর রাজ্জাককে ফোন করা হলে তিনি জানান, তিনি ২৬ অক্টোবর সকালে গিয়েছিলেন এবং সকাল সাড়ে ১১টার পূর্বেই চলে এসেছেন। তবে বুধ ও বৃহস্পতিবারের মাদ্রাসায় উপস্থিতির বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি ‘থুত’ বলে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।

মাদ্রাসার এডহক কমিটির সভাপতি মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, অধ্যক্ষ অসুস্থ থাকার কারণে মানবিক দিক বিবেচনা করে তাকে কিছু বলা হয়নি। পরবর্তীতে তাকে মেডিকেল ছুটি নিতে বলা হলেও তিনি এখনও পর্যন্ত ছুটি নেননি। তিনি কেন মেডিকেল ছুটি না নিয়ে ছুটি কাটাচ্ছেন, তা তার জানা নেই।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার এসএম সুলতান মাহমুদ জানান, তিনি গত ৮ অক্টোবর মাদ্রাসা পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে অধ্যক্ষকে অনুপস্থিত পেয়েছিলেন। তিনি অধ্যক্ষের সাথে যোগাযোগ করে তাকে দেখা করতে বলেছেন, কিন্তু “অদ্যবধি তিনি আমার অফিসে আসেননি।”