স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যাসহ সারাদেশে সকল সাংবাদিক হত্যার বিচার, নবম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, দশম ওয়েজ বোর্ড গঠন এবং চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সদস্যরা।
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ঘোষিত দেশব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে ঘন্টাব্যাপী এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয় যশোর প্রেসক্লাবের সামনে।
সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সভাপতি আকরামুজ্জামান এর সভাপতিত্বে বিক্ষোভ সমাবেশে সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এস. এম. ফরহাদ। কর্মসূচিতে সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সংবাদকর্মীরা অংশ নেন।
বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলার বিচার না হওয়া জাতির জন্য এক কলঙ্ক। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেখ হাসিনা সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা বাধাগ্রস্ত করেছেন, এবং বর্তমান সরকারের আচরণও একই ধারাবাহিকতার প্রতিফলন।
বক্তারা সম্পাদকদের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে বেতনের নামে প্রতারণার অভিযোগ আনেন। তারা বলেন, “খাতায় কলমে বেতন দেখিয়ে পরবর্তীতে তা ফেরত নিয়ে নিচ্ছেন, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য ও অনৈতিক।” হুঁশিয়ারি দিয়ে তারা বলেন, “যদি বেতন দিতে না পারেন, তবে পত্রিকা বন্ধ করে দিন। সাংবাদিকদের সঙ্গে বেতন নিয়ে খেলা বন্ধ করুন।”
বক্তারা অবৈধভাবে চাকরিচ্যুত সাংবাদিকদের দ্রুত পুনর্বহালেরও দাবি জানান।
সবশেষে বক্তারা যশোরের সাংবাদিক আর. এম. সাইফুল আলম মুকুল, শামছুর রহমান ক্যাবেলসহ সারাদেশে নিহত সকল সাংবাদিক হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সহকারী মহাসচিব নূর ইসলাম, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোরের সাবেক সভাপতি এম. আইউব, সাবেক সাধারণ সম্পাদক তৌহিদ জামান, সাংবাদিক নেতা সরোয়ার হোসেন, কাজী আশরাফুল আজাদ, সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল্লাহ হুসাইন এবং তরিকুল ইসলাম তারেক প্রমুখ।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ভোররাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারে নিজ বাসায় নৃশংসভাবে খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো সুরাহা হয়নি। তদন্ত দায়িত্ব থানা-পুলিশ, ডিবি ও র্যাবের পর বর্তমানে মামলার তদন্তভার রয়েছে পিবিআইয়ের হাতে।






