স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত ও শরীর চর্চা শিক্ষকের পদ পুনর্বহালের দাবিতে যশোর প্রেসক্লাবের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে করেছে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। শনিবার বিকেলে সুর ও প্রতিবাদের মিশ্রণ ঘটিয়েছেন তারা।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক সম্প্রতি সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষকের পদ বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাতে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা এটিকে কোমলমতি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পথে বড় বাধা হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
সমাবেশে উপস্থিত সাংস্কৃতিক কর্মীরা শুধুমাত্র বক্তব্য দিয়েই নয়, বরং গানের মাধ্যমেও তাদের ক্ষোভ ও দাবি প্রকাশ করেন। জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর তাঁরা সমবেত কণ্ঠে পরিবেশন করেন’এই শিকল ছল’, ‘মুক্তি মন্দিরো’ এবং ‘ধনধান্য পুষ্পে ভরা’-এর মতো উদ্দীপক গানগুলো। এই পদগুলো বাতিলের সিদ্ধান্তকে একটি ‘সাংস্কৃতিক সংকট’ আখ্যা দিয়ে বক্তারা বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকে শিল্প-সংস্কৃতিকে সরিয়ে ফেলা একটি সুদূরপ্রসারী চক্রান্ত।
সমাবেশে সুরধনী’র সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু প্রতিবাদী বক্তব্য রাখেন। তিনি সরকারের কাছে এই জনগুরুত্বপূর্ণ পদ দুটি অবিলম্বে পুনর্বহালের জোরালো দাবি জানান।
যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় নেতারা এই সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে উপস্থিত ছিলেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সুরধনীর সভাপতি হারুন অর রশিদ,উদীচীর সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদুর রহমান খান বিপ্লব, বিবর্তনের সভাপতি নওরোজ আলম খান চপল, চাঁদের হাসির সভাপতি ফারাজি আহমেদ সাঈদ বুলবুল, বিবর্তনের সহ সভাপতি এইচ আর তুহিন,পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন, বাংলাদেশের কম্উনিস্টলীগ যশোরের সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু, ছাত্রনেতা ইমরান খান, রাশেদ খান প্রমুখ।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, শিশুদের সৃজনশীল ও মানবিক মনন গঠনে সংগীত এবং শারীরিক শিক্ষা অপরিহার্য। বিশ্বের বহু উন্নত দেশে যেখানে এসব বিষয়কে শিক্ষার মূল কেন্দ্রে আনা হচ্ছে। সেখানে এমন সিদ্ধান্ত আমাদের জাতিকে পশ্চাৎমুখী করে দেবে। তাঁরা এই সাংস্কৃতিক সঙ্কটে জেলার সকল সাংস্কৃতিক ও সচেতন নাগরিককে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণার আগে, নেতারা প্রাথমিক শিক্ষায় সৃজনশীলতার পথ উন্মুক্ত রাখতে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাতিলকৃত পদগুলো দ্রুত পুনর্বহাল করতে সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।




