স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন, একটি বড় দল সংস্কার থেকে বেরিয়ে গেছে। অথচ এখন সংস্কার সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন। দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তার জন্য সবাইকে সংস্কারের পক্ষে থাকতে হবে। জনগণ গণভোটের কথা বললেও আপনি গণতন্ত্রের কথা বলে এড়িয়ে যান। তাহলে তো গণতন্ত্রের কিছু থাকলো না।
বুধবার (১২ নভেম্বর) বিকালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের নিয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল হেলথ অ্যালায়েন্সের (এনএইচএ) আত্মপ্রকাশ’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জুলাইয়ের চেতনায় উদ্বুদ্ধ নতুন এ সংগঠনে চিকিৎসকদের পাশাপাশি নার্স, টেকনোলজিস্ট, জনস্বাস্থ্যবিদ, ফিজিওথেরাপিস্টও রয়েছেন। কমিটি ঘোষণা করেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আব্দুল্লাহ। এ সময় আরও ছিলেন এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, জিয়াউর রহমান গণমানুষের কথা ভেবেছিলেন বলেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে নিজের বৈধতা নিয়েছেন। গত এক বছরে শিক্ষার্থীরা যে দাবি নিয়ে এসেছিল, তার কোনোটাই বাস্তবায়ন করতে পারেনি। আন্দোলনরত অসংখ্য শ্রেণি-পেশার মানুষকে সরকার প্রতিশ্রুতি দিলেও পূরণ করতে পারেনি। ফলে তাদের আবারও রাস্তায় নামতে হচ্ছে। এখন কথা বললেই অনেক উপদেষ্টা নাখোশ হোন। কিন্তু ওই চেয়ারে বসে সেটি করতে পারেন না।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার একা একা সব করতে গেছে। শিক্ষকদের আন্দোলনে পুলিশ বেধড়ক পিটিয়েছে। এরপর নার্স, চিকিৎসক থেকে শুরু করে সবাইকে খারাপ পরিস্থিতির মুখে পড়তে হয়। মানুষ সংস্কারের প্রয়োজন আছে নাকি নেই চিন্তা করছে। বিগত ১৫ বছরে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের এমন কোনও রাষ্ট্রের যন্ত্র নেই; যা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করেনি। এখনও তাদের অনেক নেতাকর্মী নিখোঁজ। কাজেই রাষ্ট্রের মূল জায়গায় সংস্কার দরকার; যাতে আর কাউকে গুমের শিকার হতে না হয়।
এনসিপির মুখ্য সমন্বয় বলেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কতটা উন্নত সেটা ঢাকা মেডিক্যালে গেলেই স্পষ্ট হয়। চিকিৎসকদের বেতন কাঠামো, নিরাপত্তা, ভালো আবাসন সুবিধা নেই। নার্সদের পদোন্নতির কোনও সিস্টেম নেই। বিভিন্ন দেশে নার্সরা উন্নত সেবা দিতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে। একটা স্বাস্থ্য কাঠামো যদি আমরা তৈরি করতে না পারি, কোন দল কোন পদ বাগিয়ে নেবে এগুলো যদি চলতেই থাকে, তাহলে মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার কোনও পথ থাকবে না।
ডা. তাসনিম জারা বলেন, স্বৈরাচারের সময়ে জুলাই বিপ্লবে আহতদের চিকিৎসা দিতে নিষেধ করা হয়। অথচ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কাজই ছিল মানুষকে চিকিৎসা সেবা দেওয়া। সেখানে রাজনৈতিক পরিচয় নির্ভর করার কথা নয়। এই যে স্বাস্থ্য খাতেও রাজনৈতিক ছায়া, এটি আমরা কখনোই চাই না। স্বাস্থ্য খাতের আমূল পরিবর্তন দরকার। এই সময়ে এসেও আমাদের হাসপাতালগুলোতে রোগীদের মেঝেতে থাকতে হয়। এ দেশে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া শুধু ক্ষমতাধরদের জন্য সহজ, কিন্তু এটি তো হওয়ার কথা ছিল না। স্বাধীনতার ৫৪ বছরেও এমন চিত্র দুঃখজনক। এই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে আমাদের পুরো চিত্র বদলে ফেলতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন যে প্রস্তাবনা দিয়েছে, তার কোনোটাই আমরা বাস্তবায়ন করতে দেখিনি। আমাদের প্রাথমিক চিকিৎসাব্যবস্থা শক্তিশালী করতে হবে। রোগী ধনী, গরিব যে-ই হোক, সেবা পাওয়াটাই মুখ্য হবে।




