স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রাক্কালে, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে যশোরে অনুষ্ঠিত হলো বাম গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের আঞ্চলিক কনভেনশন। বাম প্রগতিশীল দল ও বিভিন্ন গণসংগঠনের নেতৃবৃন্দ এতে অংশগ্রহণ করেন। শুক্রবার দিনব্যাপী যশোর শহরের বি মেমোরিয়াল হলে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হয়।এই ফ্রন্ট বৃহত্তর যশোর জেলার কনভেনশন বি. সরকার গুণনৈমান মঞ্চে করা হয়।
বাম গণতান্ত্রিক জোট যশোর জেলার সমন্বয়ক ও বাসদ যশোর জেলার সদস্য সচিব হাচিনুর রহমান-এর সভাপতিত্বে কনভেনশনে বক্তব্য রাখেন,বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক ও বাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কমরেড বজলুর রশিদ ফিরোজ, বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক কমরেড ইকবাল কবির জাহিদ এবং সিপিবি’র কেন্দ্রীয় প্রেসিডেন্ট সদস্য এস এ রশিদ সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এসময় কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, দেশ আজ চরম রাজনৈতিক সংকট অতিক্রম করছে। সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন, ধর্মীয় মৌলবাদী সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর আস্ফলন এবং দুর্নীতি বহুগুণ বেড়েছে। পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষার গণঅভ্যুত্থান আজ বেহাত হতে চলেছে। জনমত উপেক্ষা করে লাভজনক বন্দর বিদেশি কোম্পানির কাছে ইজারা দেওয়া হয়েছে। দ্রব্যমূল্য, বেকারত্ব ও দারিদ্র্যের অপঘাতে জনজীবন দুঃসহ। এ অবস্থা থেকে মুক্ত হতে শুধুমাত্র ক্ষমতার পালাবদল নয়, বরং ব্যবস্থার বদল করা জরুরি। গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন অন্যতম উপাদান হলেও একমাত্র উপাদান নয়।
বক্তারা আরও বলেন, দেশবাসী গত ১৬ বছর ভোট দেওয়া থেকে বঞ্চিত ছিল। এ কারণে আসন্ন নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তবে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষিত হলেও এখনো ভয়হীন নির্বাচনী পরিবেশ তৈরি হয়নি। ভোটে টাকার খেলা, পেশী শক্তি এবং সাম্প্রদায়িকতা মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতে দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।
কনভেনশেেন থেকে কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীরা বুর্জোয়া জাতীয়তাবাদী ধারা ও বুর্জোয়া মৌলবাদী ধারার বিপরীতে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে বাম প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের অংশগ্রহণে জনগণের নিজস্ব রাজনৈতিক শক্তি “গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট”কে সারাদেশে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
কনভেনশন থেকে শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি, কৃষকের ফসলের নায্য মূল্য, ক্ষেত মজুরদের রেশন, ছাত্রদের শিক্ষা, বেকার যুবকদের কাজ, সকল নাগরিকের স্বাস্থ্য, নারীর অধিকার এবং সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার পরিবেশ তৈরি করার লক্ষ্যে বাম-প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও সরকার প্রতিষ্ঠায় যুক্তফ্রন্টকে শক্তিশালী করার জন্য আহ্বান জানানো হয়।
এছাড়াও কনভেনশনে আরও বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাসদ কেন্দ্রীয় সদস্য আনারুল ইসলাম বাবুল, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম নেতা তসলিম উর রহমান, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ কেন্দ্রীয় কমিটি অন্যতম নেতা ও যশোর জেলা সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য জিল্লুর রহমান ভিটু, বাসদ যশোর জেলা আহ্বায়ক শাহজাহান আলী, সিপিবি যশোর জেলা সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হাসান, বাম গণতান্ত্রিক জোট মাগুরা জেলার অন্যতম নেতা কাজী নজরুল ইসলাম ফিরোজ, ঝিনাইদহ জেলা সম্পাদক শহিদুল এনাম পল্লব, বাংলাদেশ জাসদ নড়াইল জেলার অন্যতম নেতা এএসএম হেমায়েতুল্লাহ হিরু।
বিভিন্ন গণসংগঠনের পক্ষে বক্তব্য রাখেন, প্যালেস্টাইন সংহতি কমিটির যশোরের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ ইসরারুল হক, ভবদহ পানি নিষ্কাশন সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আব্দুল হামিদ, গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী পরিষদের আহ্বায়ক হারুন উর রশিদ, সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষে এডভোকেট বাসুদেব বিশ্বাস ও সানোয়ার আলম খান দুল, বৃহত্তর যশোর জেলা রেল যোগাযোগ ও উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আমিনুর রহমান হিরু, নারী মুক্তি পরিষদের সখিনা বেগম দীপ্তি, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের রাশেদ খান ও ইমরান খান, মুক্তেশ্বরী বাঁচাও আন্দোলনের আহ্বায়ক অনিল বিশ্বাস, কপোতাক্ষ নদ বাঁচাও আন্দোলনের নেতা আব্দুর রহিম, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হক, শিক্ষক প্রতিনিধি আবু সালেহ, মন্টু বাউল, রিক্সাশ্রমিক ইউনিয়নের নেতা আব্দুল জলিল প্রমুখ।
সভা পরিচালনা করেন বাম গণতান্ত্রিক জোট যশোর জেলার অন্যতম নেতা ও বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ যশোর জেলা সদস্য পলাশ বিশ্বাস।




