স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে শিক্ষকদের ভূমিকা শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম এম) কলেজের শিক্ষক লাউন্সে এই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বক্তারা শিক্ষার মানোন্নয়নের জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং রাষ্ট্রের সম্মিলিত ভূমিকার উপর জোর দেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) প্রফেসর বি এম আব্দুল হান্নান। তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই বিপ্লবে আহত ও নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিনন্দন জানান।
মহাপরিচালক আব্দুল হান্নান শিক্ষকদের পদোন্নতি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে তার নেওয়া পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জানান, অতিরিক্ত চিফ অ্যাটর্নি জেনারেলের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ১৮৭৬ জন শিক্ষককে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আজ দেশের প্রতিটা সেক্টরে একই কথা শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন হচ্ছে না। এর কারণ হিসেবে তিনি গুণগত শিক্ষা ব্যবস্থা, কারিকুলাম, ক্লাসরুম, শিক্ষক এবং গভর্নিং বডির দুর্নীতিকে দায়ী করেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়ন শুধু শিক্ষকের উপর নির্ভর করে না। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও রাষ্ট্র সবার উপর নির্ভর করে।
তিনি শিক্ষকদের আর্থিক স্বচ্ছলতা ও মানসিক শান্তির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, ৪ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষককে টিএসটির মাধ্যমে বেতন দেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষকদের বাড়ি ভাড়া ৪ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ করে দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে দুর্নীতির প্রসঙ্গে মহাপরিচালক বলেন, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি অবশ্যই অভিশাপ। এসব প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্তভাবে শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগের জন্য একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এর আওতায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী বছর থেকে এই কার্যক্রম শুরু হবে এবং ইতিমধ্যে শূন্য পদের তালিকা গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ক্যাডার কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই। মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষকদের বেসিক ট্রেনিং দেওয়ার জন্য মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধিদপ্তর একটা লিজ প্রজেক্টের মাধ্যমে ১২টি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। যার অধীনে ১৪টি কলেজে ৫ দিনব্যাপী কোর্স শুরু হয়েছে। শিক্ষকদের সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে সরকার বিশ্ব শিক্ষক দিবস ও শিক্ষক সপ্তাহ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গুণী শিক্ষকদের সম্মানিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। ১২টি ক্যাটাগরিতে গুণী শিক্ষকদের ৩ লাখ নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদপত্র পুরস্কার হিসেবে দেওয়া হয়।
এম এম কলেজের অধ্যক্ষ এস এম শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মোসাম্মদ আসমা বেগম। সেমিনারের আহ্বায়ক ছিলেন, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর এ কে এম রফিকুল ইসলাম। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন, প্রফেসর আতিয়ার রহমান। প্রবন্ধের উপর আলোকপাত করেন, সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক হামিদুর রহমান এবং অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহের আফরোজ।পদোন্নতিপ্রাপ্ত শিক্ষকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলা বিভাগের মেহেদি হাসান এবং রসায়ন বিভাগের সাজ্জাদ হোসেন।







