যশোরে আইন শৃংখলা কমিটির মিটিং এ উদ্বেগ প্রকাশ

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোর জেলার মাসিক আইন শৃংখলা কমিটির মিটিং এ অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও প্রার্থীসহ সাধারণ মানুসের নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কমিটির সদস্যরা। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সভা কক্ষে জেলার উর্ধতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মাসিক সভায় এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন আগামি জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সামনে রেখে জেলর যে কোনো অপরাধ চক্রের তৎপরতা রুখে দেওয়া হবে।

মাসিক সভায় অপরাধ চিত্রে দেখা গেছে, নভেম্বর মাসে জেলায় ডাকাতি ১টি, খুন ৩টি, ধর্ষণ ১ টি, সড়ক দূর্ঘটনা ৮টি, পুলিশ আক্রান্ত ৩টি, মামলা ৬৪ টি, অস্ত্র আইনে মামলা ২টি ,বিস্ফোরকে ২টি, মাদক দ্রব্যে ৬৮ টিসহ সর্বমোট ২২৪ টি মামলা হয়েছে।

আক্টোবর মাসে খুন ছিলো ৭টি, ধর্ষণ ছিলো ৬টি, অপহরণ ছিলো ১টি, সড়কদূর্ঘটনা ছিলো ৯টিসহ সর্বমোট মামলা ছিলো ২২৩টি। অর্থাৎ জেলায় খুন ধর্ষণ কমলেও মাসলা বেড়েছে।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন হবে। সরকারি কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক পোস্টার ভোট চালু করা হয়েছে।আমাদের কাছে থাকা গোয়েন্দা তথ্য মতে আমরা কাজ করছি। যেটা আমাদের কাছে ত্রেট মনে হয় সেটার বিষয়ে আমরা ব্যবস্থা নেব। জেলার অপরাধীদের তালিকা আমাদের কাছে আছে। আমরা তাদের বিষযে সিদ্ধান্ত নিতে পারব। পিপি আছেন উনাকে বলব চিহ্নিত অপরাধীদের জামিনের বিষয়ে তদারকি করতে। আমরা সব কিচু মিলিয়ে পরিবেশ সুষ্ঠ রাখতে কাজ করছি। আমরা কাজ করে যেতে চাই। প্রকাশ করতে চাই না। প্রকাশ করলে অপরাধীরা সতর্ক হয়ে যায়। আমরা তিনটা ফেজে কাজ করছি। শর্ট, মিড ও লং।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, আমরা একটা সুন্দর প্লাটফর্ম তৈরি করছি।যারা স্টেক হোল্ডার আছেন সবার সাথে পর্যায়ক্রমে বসব ।শহরের যানজটের বিষয়ে পৌর প্রশাসক পরিকল্পনা করছেন। দুটি ভাগে কাজ করা হবে। আমরা এখনও কাজ শুরু করিনি। আমাদের ডিসি এসপির মধ্যে পরিকল্পনা আছে। যশোর শহরকে সুন্দর ও শান্ত রাখতে আমরা একযোগে কাজ করব। আমরা যেটা বলব সেটা করে দেখাবো।আমরা সবখিছু পরিস্কার ভাবে বলছি না। সবার নিরাপত্তার বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। শহরের জাবির ট্রাজিটি নিয়ে মন্ত্রানালয় কাজ করছে। নতুন বাংলাদেশ গঠনে জুলাই যোদ্ধাদের ভূমিকা রয়েছে। আমরা সবাই মিলে কাজ করতে চাই।

পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম বলেন, জেলায় মামলার সংখ্যা বাড়লে উদ্বেগ হওয়ার কিছু নাই। মামলা বাড়ার মানে হলো আইন শৃংখলা সঠিক ভাবে কাজ করছে। চুরি ডাকাতি কমলে জেলার আইন শৃংখলা ভালো হবে।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচন সামনে রেখে সংখ্যালঘুদের ভাবনার কিছু নাই। আমাদের ২৪ শের আন্দোলন হয়েছিলো সাম্য মানবিক বাংলাদেশ গড়ার জন্য। তাহলে কেন মনে করবেন সংখ্যালঘুরা অনিরাপদ। যশোরের অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে আমরা কাজ করবো। নির্বাচনে সকল দল ও প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। আমরা কিশোর গ্যাং মুক্ত যশোর গড়তে কাজ করছি। আপনাদের কাছে অনুরোধ কিশোর গ্যাং আটকের পর কেউ যেন আত্মীয়, ভাই, জুলাইযোদ্ধা বলে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করবেন না। অবৈধ কোনা আপিল কেউ করবেন না। যশোরে ২০ টি চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। প্রতি রাতে অভিযান চলছে। অবৈধ মাদক অস্ত্র এসব বিষয়ে আপনারা লেখালেখি করেন। যারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী এই যশোরের মাটিতে তাদের শান্তিতে ঘুমাতে দেব না।

যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, যশোরে কাদের কাছে অস্ত্র ছিলো, কারা জমা দিয়েছে আর কারা জমা দেয়নি এর একটা তালিকা তৈরি করা হোক। যশোরে অবৈধ অস্ত্র আছে, অস্ত্র ববসায়ী আছে। বাইরে থাকা অস্ত্রগুলো উদ্ধার করতে হবে। বিগত নির্বাচনে যারা অংশগ্রহণ করেছিলো তারা সমাজের প্রভাবশারী অপরাধী। তারা কেউ কেউ প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। জেলে ও আদালতে একটা চক্রের মাধ্যমে অপরাধীরা সহজে জামিন পাচ্ছে। পিসি আর না থকাতে সহজে জামিন পাচ্ছে। মাদকের জন্য যশোরে কয়েকটি জায়গা আছে যেখানে অভিযান চালানো দরকার। আমাদের রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। যেন কোনো অপরাধী জার্সি পরিবর্তন করে দলে ভিড়তে না পারে।

জেলা জামায়াত ইসলামীর আমীর গোলাম রসুল বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর সাধারণ মানুষর মধ্যে ব্যপক আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। আমরা সবাই নির্বাচনের আচারণ বিধি মেনে চলার চেষ্টা করব। গ্রাম গঞ্জের সাধারণ মানুষের সাথে কথা হয়েছে তারাভোট দিতে আগ্রহী। তবে জীবনের নিরাপত্তা চাই। এলাকায় এলাকায় সন্ত্রাসী বাহিনি ত্রাসের রাজত্ব তৈরির পায়তাড়া করছে।

জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বলেন,অনেক ত্যাগের পর এই নির্বাচন। নির্বাচন সুষ্ঠ সুন্দর করতে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করা দরকার। আপনারা আসার পর এখনও পর্যন্ত রাজনৈতিক দলের সাথে বসতে পারেননি। আপনারা যদি মনে করেন বিরাজনৈতিককেরণের মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করবেন সেটা সম্ভব না। নির্বাচনের পূর্বশর্ত অবৈধ অস্ত্র ও সন্ত্রাসীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।

সভায় পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতন, সংখ্যা লঘু ভোটারদের ভোট পরবর্তী ও পূর্ববর্তী সময়ে সার্বিক নিরাপত্তার দাবি তুলে ধরেন।

প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও মানবজমিন পত্রিকার সাংবাদিক নূর ইসলাম ভোটের আগে অবৈধ অস্ত্র প্রার্থী সমর্থক ও ভোটারদের জানমালের নিরাপত্তার বিষয়ে আলাকপাত করেন। সাম্প্রতিক সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখ্যপাত্র ওসমান হাদির উপর হামলার বিষয় উল্লেখ করে তারা বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট টার্গেট কিলিং মিশন হাতে নিয়ে মাঠে নেমেছে। তারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চাই। নিরাপত্তার জন্য বৈধ অস্ত্র ব্যবহারকরা যাবে কিনা সে বিষয়েও প্রশ্ন তুলা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানের সঞ্চালনায় সভায় উপস্তিত ছিলেন, যশোর পৌর সভার প্রশাসক রফিকুল ইসলাম, ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক রাসেল, চেম্বর অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা খালেদ সাইফুল্লাহ জুয়েল, মো. নুরুজ্জামান,সাইদ সানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শ্রেণিপেশার মানুষ।