স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
‘জুলাই যোদ্ধা’ ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদির হত্যার প্রতিবাদে যশোর শহর শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) দিনব্যাপী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশে উত্তাল ছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পরিচিত হাদির এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে শহরের সর্বস্তরের ছাত্রজনতা রাস্তায় নামে।
শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে যশোরের সর্বস্তরের ছাত্রজনতার ব্যানারে মুজিব সড়কের মডেল মসজিদের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি মুজিব সড়ক হয়ে দড়াটানা ভৈরব চত্বর, শহীদ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ প্রদক্ষিণ করে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা প্রচণ্ড ক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা ‘আমরা সবাই হাদি হবো,’ ‘হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেবনা,’ এবং ‘তুমি কে আমি কে হাদি, হাদি’ স্লোগান দিয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। এসময় মিছিলে ‘দিল্লি না ঢাকা—ঢাকা ঢাকা,’ ‘হাদি ভাই কবরে, খুনি কেন ভারতে?’, ‘যে ভারত খুনি পালে, সেই ভারত ভেঙে দাও,’ ‘ছাত্রলীগের আস্তানা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও,’ ‘ইনকিলাব ইনকিলাব জিন্দাবাদ,’ ‘আপোস না সংগ্রাম—সংগ্রাম সংগ্রাম’ এবং ‘মুজিববাদ মুর্দাবাদ, ইনকিলাব জিন্দাবাদ’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
শহীদ মিনারে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপির যশোর জেলা প্রধান সমন্বয়ক নুরুজ্জামান। তিনি বলেন, “হাদীর মতো একজন দেশপ্রেমিককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা নেক্কারজনক অপরাধ। তিনি ছিলেন দেশের অমূল্য সম্পদ।” তিনি দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতার মাধ্যমে হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি জানান।
নুরুজ্জামান আরও বলেন, “আগামী দিনের বাংলাদেশ পরিচালনায় যারা বাধা সৃষ্টি করবে, সেই ধরনের শক্তিকে আমরা ক্ষমতায় দেখতে চাই না। আজ যশোরসহ সারাদেশের ছাত্রজনতা ফুঁসে উঠেছে। এই হত্যার বিচার না হলে ভবিষ্যতে কোনো রাজনীতিবিদই নিরাপদে থাকতে পারবেন না।”
কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) সাকিব শাহরিয়ার, জাগপার প্রেসিডিয়াম সদস্য নিজামুদ্দিন অমিত সহ সর্বস্তরের ছাত্রজনতা অংশ নেন। সমাবেশ শেষে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর ২০২৫) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় থাকা অবস্থায় শরীফ ওসমান হাদিকে মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা গুলি করে। তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।



