স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে বাড়িতে এসে নিখোঁজ হওয়া পুলিশ কনস্টেবল আখতারুজ্জামান (৪৬)-এর অর্ধগলিত লাশ ২৬ দিন পর পঞ্চগড় জেলায় উদ্ধার হয়েছে। তিনি যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার জামালতা গ্রামের বাসিন্দা।
গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার ৬ নম্বর সাতমেড়া ইউনিয়নের নয়মাইল এলাকার একটি আখক্ষেতের ভেতর থেকে স্থানীয়রা অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেন। পরে পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
প্রাথমিকভাবে লাশের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) বেলাল হোসেন লাশের পরনে থাকা কাপড়ের ছবি সংগ্রহ করে নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে বিভিন্ন থানায় পাঠান। এর ধারাবাহিকতায়, শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে চৌগাছা থানা পুলিশ সেই ছবি ও পোশাকের বর্ণনা নিখোঁজ পুলিশ সদস্য আখতারুজ্জামানের পরিবারের সদস্যদের দেখালে তারা মরদেহটি শনাক্ত করেন।
নিহত আখতারুজ্জামান চৌগাছা উপজেলার জামালতা গ্রামের মৃত আনিচুর বিশ্বাসের ছেলে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের কনস্টেবল হিসেবে খুলনা রেঞ্জের বাগেরহাট জেলার রামপাল থানায় কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আখতারুজ্জামান গত ২৬ নভেম্বর পাঁচ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন। তিনি স্ত্রী ও সন্তানসহ চৌগাছা পৌরসভার ইছাপুর গ্রামে ভাড়া থাকতেন। পরদিন ২৭ নভেম্বর সকালে তিনি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হন। যাওয়ার সময় তিনি তার ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোন বাসায় রেখে যান। এরপর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন।
এ ঘটনায় গত ৩০ নভেম্বর তার স্ত্রী শাহিনা আক্তার সীমা (৩৭) চৌগাছা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর ১৪০২) দায়ের করেন।
নিহতের শ্যালক মামুনুর রশীদ বলেন, “পরিহিত পোশাক ও সঙ্গে থাকা অন্যান্য আলামত দেখে আমরা নিশ্চিত যে এটি আমার দুলাভাইয়েরই লাশ।”
চৌগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম জানান, নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির সূত্র ধরে পঞ্চগড় থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহটি পরিবারের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে। লাশের সুরতহাল এবং আইনগত প্রক্রিয়া পঞ্চগড় সদর থানা পুলিশ সম্পন্ন করবে।




