স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
বহুল আলোচিত যশোর জেলা যুবলীগ নেতা ও পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে ‘টাক মিলন’-কে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর, ২০২৫) মধ্যরাতে রাজধানী ঢাকার রামপুরা এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়।
যশোর গোয়েন্দা পুলিশের ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আলী এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আটক মিলন যশোর শহরের পুরাতন কসবার রোস্তম আলীর ছেলে।
ডিবি পুলিশের ওসি মোহাম্মদ আলী গণমাধ্যমকে জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্ষমতার অপব্যবহারসহ মিলনের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। সেসব ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মামলা চলমান। এছাড়া তার নামে গ্রেফতারি পরোয়ানার আদেশ রয়েছে। ডিবির একটি বিশেষ টিম ঢাকার রামপুরায় তার অবস্থান শনাক্ত করে তাকে আটক করে এবং বর্তমানে তাকে নিয়ে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত জাহিদ হোসেন মিলন ওরফে টাক মিলনের বিরুদ্ধে হত্যা, বিস্ফোরক আইন ও ক্ষমতার অপব্যবহারসহ কমপক্ষে ১৪টি মামলা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে যেসব চাঞ্চল্যকর ঘটনার অভিযোগ রয়েছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ২০১৮ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর রাতে শহরের পুরাতন কসবা কাজীপাড়া এলাকার যুবলীগ কর্মী শরিফুল ইসলাম সোহাগকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি টাক মিলন।
২০১৯ সালের ২৭ জানুয়ারি রাতে যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য কাজী নাবিল আহমেদের বাড়িতে বোমা হামলার ঘটনায় টাক মিলন প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন এবং তার নেতৃত্বেই এই হামলা চালানো হয়েছিল বলে পুলিশের তদন্তে উঠে আসে।
পালবাড়ির রয়েল কমিউনিটি সেন্টারে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যাসিনো বা জুয়া ব্যবসা পরিচালনা করতেন। ক্যাসিনোবিরোধী ও শুদ্ধি অভিযান চলাকালে তাকে এর আগেও আটক করা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, টাক মিলন এর আগেও বিভিন্ন সময়ে আটক হয়েছিলেন ।ক্যাসিনোবিরোধী অভিযান চলাকালে ২০২০ সালের ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় দুবাই থেকে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে দেশে ফেরার পথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে একবার গ্রেফতার করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ অবস্থায় তিনজন সহযোগিসহ তাকে আটক করা হয়েছিল।




