স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোর জেলা জাসদের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এ্যাডভোকেট বাবু অশোক কুমার রায় আর নেই। শুক্রবার (২০ শে ডিসেম্বর) মধ্যরাতে যশোর শহরের বেজপাড়া নিজের বাসায় বুকে ব্যাথা অনুভব হলে যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের করনারি ইউনিটে উদ্দেশ্যে রওনা হলে পথিমধ্যেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। তিনি ৩ কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন।
আজ শনিবার ( ২০ শে ডিসেম্বর), সকাল ১১.৩০ মিনিটে শহীদ সূধীর বাবুর কাঠগোলা চত্বরে বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে তাঁর রাষ্ট্রীয় সালাম (গার্ড অব অনার), রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে শবদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দুপুরেই তাঁর শেষ অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়া নীলগঞ্জ মহাশ্মশানে সম্পন্ন হবে বলে দলীয় সূত্র জেলা জাসদের অন্যতম নেতা এ্যাডভোকেট আবুল কায়েস জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য ১৯৬৮ সালের সম্মিলনী হাই স্কুলের এসএসসি ব্যাচ ছিলেন। পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র লীগের (খান টিপু সুলতান-রবিউল আলম) কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন।
আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে শেখ মুজিবুর রহমান থেকে বঙ্গবন্ধু উপাধি পাওয়ার পর বঙ্গবন্ধু ১৯৬৯ সালে শেষ দিকে প্রথম যশোরে আসলে দড়াটানায় ছাত্রলীগের পার্টি অফিসে বঙ্গবন্ধুর যে ছবি টাঙ্গানো ছিল ওটা বাবু অশোক রায়ের নিজ হাতে আঁকা, বঙ্গবন্ধু নিজের ছবি ছাত্রলীগের জেলা পর্যায়ের নেতার হাতে আঁকা দেখে যারপরনাই মুগ্ধ হয়ে অশোক দাদাকে তৎকালীন ১০০ টাকা প্রীতি উপহার গোপনে হাতে গুজে দিয়ে, পিঠ চাপড়িয়ে আদর করে বলেছিলেন- “রিক্ত আমি সিক্ত আমি দেবার কিছু নাই, আছে শুধু ভালোবাসা দিয়ে গেলাম তাই”।
তিনি ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের রাজনীতির সাথে আমৃত্যু সম্পৃক্ত থাকেন।
স্বাধীন দেশে প্রথমে হাই স্কুলের শিক্ষকতা পেশায় যোগদেন। ফুল টাইম রাজনীতির ব্রত নিয়ে পরবর্তীতে ঘনিষ্ঠ বন্ধুরা মিলে প্রিন্টিং প্রেসের ব্যবসায় যুক্ত হন।পরলোকগমনের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি যশোর আইনজীবী সমিতির সিনিয়র বিজ্ঞ আইনজীবী সদস্য ছিলেন।
যশোরের রাজনীতিতে বাবু অশোক কুমার রায় ছিলেন সততা, স্বচ্ছতা, নির্মহ, নিরহংকার, সজ্জনের উজ্জ্বল প্রতীক। মেধা, প্রজ্ঞা, মানবতা, জ্ঞানে, নীতি, নৈতিকতা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও দেশপ্রেমে ছিলেন পূর্ণ। প্রকৃত অর্থে এধরনের মানবিক গুণাবলী সমৃদ্ধ, দেশপ্রেমিক মানুষই দেশের সে-ই সোনার মানুষ।




