স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
জমি জোরপূর্বক দখল, চাঁদাবাজি, মিথ্যা মামলায় হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন যশোর সদর উপজেলার রূপদিয়া (চাঁচড়া) এলাকার বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলাম। সোমবার দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরের হলরুমে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি ন্যায়বিচার পেতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শহিদুল ইসলাম জানান, ১৯৯১ সালে তার পিতা লোকমান মোড়ল রূপদিয়ায় ৩৯ শতক জমি (যার মধ্যে দোতলা বাড়িও রয়েছে) দলিল মূলে তাকে ক্রয় করে দেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সেই জমি ভোগ দখল করে আসছিলেন। তবে জমিটি সরকারি ১/১ খতিয়ানভুক্ত হওয়ায় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে যশোর জজ কোর্টে স্বত্ব প্রচারের মামলা (মামলা নং- ৫২৫/২৪) দায়ের করেন, যা বর্তমানে চলমান রয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, মামলা চলাকালীন স্থানীয় শফিকুল ইসলাম, শরিফুল ইসলাম, ইনামুল হক, সিরাজ মেম্বার, আজিজুল, আব্দুল খালেক, রফিকুল ইসলাম ও জাকিরসহ আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী তার জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে।
শহিদুল ইসলাম জানান, দখলদারদের বিরুদ্ধে নির্বাহী আদালতে ১৪৪ ধারায় মামলা করলে আদালত নিষেধাজ্ঞা জারি করে। নিষেধাজ্ঞা জারির পরেও আসামিরা পুনরায় জমি দখলের চেষ্টা করে এবং পুলিশ চলে যাওয়ার পর তিনি ও তার স্ত্রী-সন্তানদের জানে মেরে ফেলার হুমকি দেয় ও মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। এ ঘটনায় তিনি আদালতে ১০৭/১১৪/১১৭ সি. ধারায় মামলা দায়ের করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, জামিন নেওয়ার পর আসামিরা তার বাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং ১০ লক্ষ টাকা চাঁদা দাবি করে। নিরুপায় হয়ে তিনি বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে চাঁদাবাজির মামলা (সি/আর-৭৫/২৫) দাখিল করেন, যা বর্তমানে কোতোয়ালি থানায় তদন্তাধীন।
শহিদুল ইসলামের অভিযোগ, আসামিরা তাকে মিথ্যা মারামারি মামলায় ফাঁসিয়ে দেয়। তিনি জানান, যে দিন ঘটনা দেখানো হয়েছে, সে দিন তিনি পিতাকে নিয়ে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বাড়িতে ফেরার পর মামলার খবর শুনে তার পিতা স্ট্রোক করেন। আদালতে জামিন নিতে গেলে তিনি আটক হন। এই খবর শুনে তার পিতা লোকমান মোড়ল ব্রেন স্ট্রোক করে মারা যান। পিতার ডেথ সার্টিফিকেট দেখিয়ে তিনি সেদিন জামিন পান এবং দাফন সম্পন্ন করেন। তিনি জানান, সর্বশেষ গত ১৯/১১/২০২৫ তারিখে আসামিরা জোর করে তার জমিতে ধান কাটতে এলে তার স্ত্রীর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ধান ফেরত দিতে বাধ্য করে।
শহিদুল ইসলাম বর্তমানে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি জানান, সন্ত্রাসীরা তাকে ও তার পরিবারকে মৃত্যুর হুমকি দিচ্ছে। এমনকি তার বাবার কাছ থেকে নেওয়া তিনটি অলিখিত স্ট্যাম্প ফেরত না দিয়ে যেকোনো প্রকার ক্ষতি করতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আসামিরা নিজেদের বিএনপি নেতা পরিচয় দিয়ে তাকে নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে শহিদুল ইসলাম তার স্ত্রী আলেয়া বেগম এবং মেয়ে আয়শা খাতুনকে সাথে নিয়ে এই প্রতারণা, সহিংসতা ও মিথ্যা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তিনি গণমাধ্যমসহ সকল সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।




