যশোর শহরের ভয়াবহ যানজট নিরসনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

যশোর শহরের ভয়াবহ যানজট নিরসনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ইঙ্গিত দিয়ে পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেছেন, আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হলে এবং নাগরিকরা দায়িত্বশীল ভূমিকা না নিলে এই সংকটের কোনো সমাধান সম্ভব নয়। একদিকে যানজট নিরসনের দাবি, অন্যদিকে অবৈধ যান ও ফুটপাত দখলের বিরুদ্ধে অভিযান না চাওয়ার মানসিকতা—এই দ্বিচারিতা বন্ধ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মঙ্গলবার পৌরসভা মিলনায়তনে ‘যশোর যানজট মুক্ত ও নিরাপদ যাতায়াতের শহর চাই’ শীর্ষক মিডিয়া ক্যাম্পেইনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন পৌর প্রশাসক। গ্রামের কাগজ ও জনউদ্যোগ যশোর যৌথভাবে এই ক্যাম্পেইনের আয়োজন করে। এসময় আমন্ত্রিত অতিথিরা কিভাবে কাজ করলে যানজট নিরাসন হতে পারে সে বিষয়ে বক্তব্য রাখেন।

সভায় গ্রামের কাগজ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিনের সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন রফিকুল হাসান বলেন, যশোর পৌরসভা এলাকায় সাড়ে চার হাজার ইজিবাইক ও প্রায় তিন হাজার রিকসার লাইসেন্স দেওয়া হলেও বাস্তবে এর বহুগুণ বেশি অবৈধ ইজিবাইক ও রিকসা শহরের সড়ক দখল করে চলছে। এসব অবৈধ বাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গেলে মানবিকতার অজুহাত দাঁড় করানো হয়। অথচ এভাবেই শহরের সড়ক ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, অবৈধ যানবাহন, অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং ও ফুটপাত দখল—সব মিলিয়ে যশোর শহর এখন কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বারবার ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হলেও অভিযানের পরপরই দখলদাররা আবার জায়গা দখল করে নেয়। প্রশাসনের একার পক্ষে এই অবস্থা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। আইন মানতে হবে—এখানে কোনো ছাড় নেই।

পৌর প্রশাসক স্পষ্ট করে বলেন, যানজট নিরসনে প্রয়োজনে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। অবৈধ যান চলাচল বন্ধ, লাইসেন্সবিহীন ইজিবাইক ও রিকসা জব্দ এবং নিয়মভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। এতে সাময়িক অসুবিধা হলেও শহরের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থে এসব পদক্ষেপ অনিবার্য।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যশোর ট্রাফিক পুলিশের পরিদর্শক ইউসুফ আলী চৌধুরী বলেন, যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ আর নরম অবস্থানে থাকবে না। ইজিবাইক ও রিকসার সংখ্যা ও গতিপথ নির্ধারণ, নিবন্ধন নিশ্চিতকরণ এবং অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে ধারাবাহিক অভিযান চালানো হবে। ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে আইন প্রয়োগ করা হবে বলেও তিনি জানান।

ক্যাম্পেইনে গ্রামের কাগজের বার্তা সম্পাদক মিলন রহমান ‘কী নোট পেপার’ উপস্থাপন করেন। আলোচনায় অংশ নেন জনউদ্যোগ যশোরের আহ্বায়ক প্রকৌশলী নাজির আহমেদ, অ্যাডভোকেট আবুল হোসেন, শ্রমিক নেতা মাহবুবুর রহমান মজনু, সমাজের কথা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আমিনুর রহমান মামুন, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি সাজেদ রহমান, প্রাক্তন অধ্যক্ষ শাহীন ইকবালসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা। তারা সবাই যশোরকে যানজটমুক্ত করতে প্রশাসনের কঠোর সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানান।