স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এখন আর শুধু একটি সাধারণ ছাত্রসংগঠন নয়; ২০২৪-পরবর্তী বাস্তবতায় এটি কার্যত বাংলাদেশের ছাত্রসমাজের অভিভাবকের দায়িত্ব পেয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে চরিত্র গঠন, নৈতিক শিক্ষা, আধুনিক জ্ঞান ও গবেষণার কেন্দ্রে পরিণত করতে ছাত্রশিবিরকে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের প্রথম অধিবেশনে এসব কথা বলেন তিনি।

সকাল ৮টায় অর্থসহ পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। তেলাওয়াত করেন ক্বারী শাইখ খোবাইবুল হক তানঈম আল-আজহারী। সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত মুনতাসির আলিফের বাবা সৈয়দ গাজিউর রহমান। উদ্বোধনকালে নিহত পরিবারের সদস্য, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী এবং ছাত্রশিবিরের গুম হওয়া সদস্যদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আয়োজনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের শুরুতেই ডা. শফিকুর রহমান দেশ ও দ্বীনের জন্য শাহাদাতবরণকারী সব শহীদের মহান আল্লাহর দরবারে মর্যাদাবান শহীদ হিসেবে কবুলিয়াত কামনা করেন। তিনি বলেন, “আজকের বাংলাদেশ পেতে আমাদের ১৯৪৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্রনেতা আব্দুল মালেক থেকে শুরু করে সর্বশেষ বিপ্লবী শরিফ উসমান হাদি— অনেকেই এই দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন।”

জামায়াতে আমির বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেন আর কখনও অস্ত্র, মাদক কিংবা নারীদের নিয়ে কোনও ধরনের বিশৃঙ্খলা না হয়— এই পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রধান দায়িত্ব এখন ছাত্রশিবিরের ওপর। মা-বোনেরা যেন শান্তি ও নিরাপত্তার সঙ্গে লেখাপড়া করতে পারে এবং প্রতিটি ছাত্র যেন তার মেধা বিকাশে মনোযোগী হতে পারে— ছাত্রশিবিরকে সে পরিবেশ গড়ে তুলতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”

তিনি বলেন, “ছাত্রসমাজের কাঁধে শহীদদের রক্তের ঋণ এবং ১৮ কোটি মানুষের প্রত্যাশার বোঝা রয়েছে। এই বোঝা বহনের শক্তি আল্লাহ তোমাদের দান করুন। ইনশাল্লাহ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ইনসাফ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একদিন বাংলাদেশেও ইনসাফের বিজয় হবে।”

সেক্রেটারি জেনারেল নূরুল ইসলাম সাদ্দামের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী পর্বের পর প্রথম অধিবেশনে দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ও বরেণ্য অতিথিরা বক্তব্য রাখেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি মাওলানা শামসুল ইসলাম, সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য আশরাফ আলী আকন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহ-সভাপতি রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান আনওয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমেদ আব্দুল কাদের এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতিরা।

বন্ধুপ্রতিম ছাত্রসংগঠনের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জাগপা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুর রহমান ফারুকী, জাতীয় ছাত্র সমাজ (কাজী জাফর)-এর সভাপতি কাজী ফয়েজ আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের সভাপতি আব্দুল আজিজ, বাংলাদেশ ছাত্র মিশনের সভাপতি সৈয়দ মো. মিলন, ভাষানী ছাত্র পরিষদের সভাপতি মোশাররফ হোসেন, গণতান্ত্রিক ছাত্রদল (এলডিপি)-এর সভাপতি মেহেদি হাসান মাহবুব, বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আবু দারদা এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রসমাজের সভাপতি বি. এম. আমির জিহাদী।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ছাত্র ঐক্যের আহ্বায়ক মোহাম্মদ ফজলে রাব্বি, বাংলাদেশ ছাত্রপক্ষের সভাপতি মোহাম্মদ প্রিন্স আল আমিন, ছাত্র মিশনের সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম সিয়াম এবং ছাত্র ফোরামের আহ্বায়ক রিয়াদ হোসেন।

দুপুর ১টায় কেন্দ্রীয় সভাপতির সমাপনী বক্তব্য ও দোয়ার মাধ্যমে সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষ হয়।