স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের খবর ছড়িয়ে পড়তেই যশোর জেলাজুড়ে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রিয় নেত্রীর মৃত্যুসংবাদ শুনে শোকে পাথর হয়ে পড়েন বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী। সকাল থেকেই শহরের লালদীঘী পাড়স্থ জেলা বিএনপির কার্যালয়ে ছুটে আসেন তারা, যেখানে কান্না, হাহাকার আর নিস্তব্ধতার মধ্যে এক হৃদয়বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির সাথে মিল রেখে আজ সকাল ৯টায় জেলা বিএনপি শোক কর্মসূচি পালন শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে, দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত করা হয়েছে। শোকের প্রতীক হিসেবে কালো পতাকা উত্তোলন। জেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা কালো ব্যাচ ধারণ করেছেন। দলীয় কার্যালয়ে কোরআন খতম ও তেলাওয়াত শুরু হয়েছে। মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই সময় অনেক প্রবীণ ও তরুণ নেতাকর্মীকে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়।
এদিকে জেলা শহরের পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও গ্রামে গ্রামে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দোয়া ও বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।
দলীয় কার্যালয়ে সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য একটি শোক বই খোলা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে শোক বইতে সর্বপ্রথম স্বাক্ষর করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। এরপর স্বাক্ষর করেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ জেলা, উপজেলা এবং অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ। সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ শোক বইতে স্বাক্ষর করতে দলীয় কার্যালয়ে ভিড় করছেন।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে গভীর শোক ও নেত্রীর আদর্শের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
যশোর জেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন ,“আজ আমরা আমাদের রাজনৈতিক অভিভাবককে হারিয়েছি। তিনি ছিলেন আপোষহীন নেত্রী, যিনি কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেননি। তাঁর শূন্যতা কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। এটি দলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি, যা কখনো ভোলার নয়। এই আপোষহীন নেত্রীকে যারা দীর্ঘদিন কষ্ট দিয়েছে, যাদের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার তিনি হয়েছেন—তাদের বিচার আল্লাহই করবেন। ইতিহাস তাদের কখনোই ক্ষমা করবে না।”
যশোর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন বলেন , “বেগম খালেদা জিয়া শুধু বিএনপির নেত্রী নন, তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক। তার নেতৃত্বে দল বহু সংকট ও দমন-পীড়ন মোকাবিলা করেছে। আজ তার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।”
যশোর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রবিউল ইসলাম বলেন, “আমাদের সবার আশা ছিল বেগম খালেদা জিয়া আবার সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন এবং এ দেশের নেতৃত্ব দেবেন। কিন্তু সেই আশা আর পূরণ হলো না। তার মৃত্যু আমাদের জন্য এক অপূরণীয় বেদনা।”
শোক কর্মসূচিতে যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, মহিলা দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নিয়ে প্রয়াত নেত্রীর আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাঁর আদর্শে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।




