যশোরে জামায়াত ও বিএনপির তিন হেভিওয়েট প্রার্থীসহ ৫ জনের মনোনয়ন বাতিল

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর জেলার দুটি আসনে যাচাই-বাছাই শেষে বড় ধরনের রদবদল এসেছে। যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডাক্তার মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এবং যশোর-১ (শার্শা) আসনে বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তি-সহ বেশ কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। যাচাই শেষে রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক আশেক হাসান এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।

যশোর-২ আসনে মোট পাঁচজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। সবচেয়ে আলোচিত বাতিলটি হলো জামায়াত নেতা ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের। ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের প্রার্থীতা বাতিল হয়েছে ২০ বছর আগের একটি ক্রেডিট কার্ডের বকেয়া সংক্রান্ত জটিলতায়। তিনি বকেয়া পরিশোধের প্রমাণপত্র দেখালেও, ব্যাংকের পক্ষ থেকে যথাসময়ে ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট না আসায় তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়।

এছাড়া, বিএনপি থেকে মোহাম্মদ ইসহক দলীয় মনোনয়ন না থাকায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। জাতীয় পার্টির ফিরোজ শাহ অগ্রণী ব্যাংকের আপত্তির কারণে তার মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান ও জহুরুল হক দুজন স্বতন্ত্র প্রার্থীরই ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষরে গরমিল পাওয়ায় তাদের প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। যশোর দুই সংসদীয় আসনে বিএনএফ প্রার্থী শামছুল হকের মনোনয়নপত্র পেন্ডিং রাখা হয়েছে।

যশোর-১ শার্শা আসনে দলীয় মনোনয়ন ও তথ্য গরমিলের কারণে বাতিল ও পেন্ডিংয়ের ঘটনা ঘটেছে। এই আসনে বিএনপির সাবেক দপ্তর সম্পাদক মফিকুল হাসান তৃপ্তির বিএনপির দলীয় মনোনয়ন না থাকায় মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটনের স্ত্রীর দেওয়া তথ্যে গরমিল পাওয়ায় তার প্রার্থিতা পেন্ডিং রাখা হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান জহির এবং শাহজাহান গোলদারের মনোনয়নপত্র ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক কাগজ না থাকায় পেন্ডিং অবস্থায় আছে।

জেলা রিটার্নিং অফিসার আশেক হাসান জানান, যাদের প্রার্থিতা বাতিল বা পেন্ডিং রাখা হয়েছে, তারা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যাদি সংশোধন করে জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে তারা এই সুযোগ গ্রহণ করতে পারবেন। তিনি আরও জানান, ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদসহ অন্যান্য বাতিল হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচনী আপিল আদালতেও আবেদন করার সুযোগ পাবেন।