মাঝারী শৈত্যপ্রবাহে কাঁপছে যশোর

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
টানা এক সপ্তাহের শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। ঘন কুয়াশা এবং উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে শীতের তীব্রতা চরম আকার ধারণ করেছে। হাসপাতালে প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগীর চাপ। বৃহস্পতিবার জেলায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবারও একই তাপমাত্রা বিরাজ করায় টানা দু’দিন যশোর সর্বনিম্ন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ল। শীত নিবারণের জন্য গ্রামের পাশাপাশি শহরের অলিগলিতেও কাঠ ও খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর দৃশ্য এখন নিত্যদিনের চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, তাপমাত্রা ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকায় বর্তমানে যশোরাঞ্চলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ চলছে। এই মৌসুমে যশোরে এর আগে আরও দু’দিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ।

শীতের এই দাপটে সবচেয়ে বেশি আশঙ্কায় পড়েছেন কৃষকরা। সূর্যের দেখা না মেলা এবং তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় বোরো ধানের বীজতলা ‘কোল্ড স্ট্রোক’ জনিত কারণে নষ্ট হয়ে যাওয়ার দুশ্চিন্তা করছেন তারা। চাষিরা বলছেন, এই ঠান্ডা যদি আরও কয়েকদিন থাকে, তবে বীজতলা আর রক্ষা করা যাবে না। এছাড়া আলু ও সরিষার চারায় কুয়াশার কারণে ক্ষতি হওয়ার শঙ্কাও বাড়ছে।

তীব্র ঠান্ডার কারণে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। জীবন-জীবিকার তাগিদে হাড় কাঁপানো ঠান্ডা উপেক্ষা করে তারা কাজে বের হতে বাধ্য হচ্ছেন।

বাবলাতলা এলাকার রিকশাচালক আব্দুর রহিম জানান, শীতে সকালে আর রাতে যাত্রী একেবারেই পাওয়া যায় না। আয়-রোজগারও কমে গেছে।

অন্যদিকে, গ্রামের দিকে শীতের তীব্রতা শহরে তুলনায় অনেক বেশি। রুপদিয়া গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, শীত জেঁকে বসায় মানুষজন ঘর থেকে কম বের হচ্ছে। দরকার না হলে কেউ ঘর ছাড়ছে না। সন্ধ্যার পর বাজারঘাট প্রায় জনশূন্য হয়ে যাচ্ছে।

যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক নাজমুল হুদা প্যারিস বলেন, এই সময় শ্বাসকষ্ট রোগীদের বিশেষ ভাবে সতর্ক থাকতে হবে। যথাযথ বাসায় থাকতে হবে। বাচ্চা ও শিশুদের বিশেষ ভাবে খেয়াল রাতে হবে। গরম কাপড় পরিধানসহ পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।