রাষ্ট্রীয় শোকের গাম্ভীর্য নিয়েই নতুন বই পেল যশোরের শিশুরা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
কুয়াশাভেজা শীতের সকালে, রাষ্ট্রীয় শোকের আবহে এবার ভিন্ন আঙ্গিকে শুরু হলো নতুন বছরের পাঠদান। ক্যালেন্ডারের পাতায় ১ জানুয়ারি। প্রতি বছর এই দিনে যশোরের স্কুলগুলোতে বেলুন, ফেস্টুন আর মাইকের শব্দে যে উৎসবের আমেজ থাকত, এবার তার ছিটেফোঁটাও ছিল না। কোনো জাঁকজমকপূর্ণ মঞ্চ বা সমাবেশ ছাড়াই নিরিবিলিতেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া হলো নতুন বই।

উৎসবের জৌলুস না থাকলেও শিশুদের হাসিতে কমতি ছিল না। নতুন বইয়ের সুবাসে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ।

সকাল থেকেই যশোরের বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আঙিনায় নতুন বই নিতে ছোট ছোট শিশুদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত সবখানেই দেখা গেছে নতুন বইয়ের প্রতি শিশুদের আগ্রহ।

শহরের নবকিশলয় স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থী নতুন বই বুকে জড়িয়ে ধরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলছিল, উৎসব হয়নি তো কী হয়েছে, নতুন বই তো পেয়েছি! বইয়ের গন্ধটা খুব সুন্দর।

রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে সভা-সমাবেশ বর্জন করা হলেও প্রতিটি বিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে শিক্ষকরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে বই বিতরণ করেন।

যশোর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে। জেলায় প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণির জন্য প্রয়োজনীয় ১২ লাখ ৮২ হাজার ৭২৫টি বইয়ের শতভাগ চাহিদাই পূরণ হয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আশরাফুল আলম তৃপ্তি প্রকাশ করে জানান, প্রতিটি উপজেলায় বই সময়মতো পৌঁছে যাওয়ায় বছরের প্রথম দিনেই প্রাথমিকের সব শিক্ষার্থী পূর্ণ সেট বই হাতে পেয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেছেন, কোনো শিশু যেন বই ছাড়া বাড়ি না ফেরে, সেই ব্যবস্থা তারা করেছেন।

তবে প্রাথমিক স্তরের এই সাফল্যের বিপরীতে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য দিনটি খুব একটা সুখকর হয়নি। জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্যমতে, মাধ্যমিক পর্যায়ে বইয়ের চাহিদা পূরণ হয়েছে মাত্র ৩১ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ, ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে তিনজনেরও কম শিক্ষার্থী পূর্ণাঙ্গ বই হাতে পেয়েছে।

মাধ্যমিক স্তরে বইয়ের এই বড় ঘাটতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। তারা দ্রুত বই সরবরাহের দাবি জানিয়েছেন।

তবে জেলা শিক্ষা অফিস অভিভাবকদের আশ্বস্ত করেছে। তারা জানিয়েছে, মুদ্রণ ও সরবরাহের কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। আশা করা হচ্ছে, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই অবশিষ্ট বইগুলো শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যাবে।

নতুন বই হাতে পাওয়ার আনন্দ নিয়েই যশোর জেলার অলিগলি এবং গ্রামের মেঠোপথে কেবল নতুন বইয়ের পাতা ওল্টানোর শব্দ। উৎসবের জৌলুস হয়তো শোকের কারণে ম্লান হয়েছে, কিন্তু শিক্ষার আলোয় আলোকিত হওয়ার প্রত্যয় ম্লান হয়নি।