স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে একটি যুগান্তকারী অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য জানান। এসময় এই অধ্যাদেশকে সরকারের একটি ‘ঐতিহাসিক অর্জন’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, “ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধনের লক্ষ্যে এই অধ্যাদেশটি গত সপ্তাহে মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছিল। গতকাল এর গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এটি সরকারের একটি ঐতিহাসিক অর্জন।” তিনি আরও যোগ করেন, সরকারি হিসাবে দেশে তামাকের প্রভাবে প্রতি বছর ১ লাখ ৩ হাজারের বেশি মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে। জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি কমাতেই এই কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়েছে।
প্রেস সচিব জানান, নতুন এই অধ্যাদেশে তামাকের ব্যবহার কমাতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে— বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হওয়া ই-সিগারেট, নিকোটিন পাউচ ও সমজাতীয় উদীয়মান তামাক পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, বিক্রয় ও ব্যবহার বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এখন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক এবং শিশু পার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে কোনো ধরনের তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা যাবে। তামাকজাত পণ্যের মোড়ক বা প্যাকেটের অন্তত ৭৫ শতাংশ অংশজুড়ে রঙিন সচিত্র স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৫০ শতাংশ। পাবলিক প্লেসে ধূমপানের পরিধি ও সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট ও বিস্তৃত করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতি থেকে আরও সুরক্ষা পাবে।
অধ্যাদেশে আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। জরিমানা ও কারাদণ্ড বৃদ্ধির পাশাপাশি দোষী ব্যক্তিদের লাইসেন্স বাতিল এবং মালামাল জব্দের ক্ষমতাও প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে নতুন কোনো তামাকজাত পণ্য বাজারে এলে তা গেজেটের মাধ্যমে এই আইনের আওতায় আনার ক্ষমতাও সরকারের হাতে রাখা হয়েছে।




