স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
মাওবাদী নেতা শহীদ সিরাজ সিকদারের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার আয়োজনে যশোরে জাতীয় শহীদ দিবস পালিত হয়েছে। শুক্রবার বিকাল ৪টায় যশোর শহরের রেলরোড ফুড গোডাউনের সামনে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
নয়া গণতান্ত্রিক গণমোর্চার কেন্দ্রীয় জাতীয় কমিটির সদস্য খবির শিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সংকট নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে খবির শিকদার বলেন, সংস্কার ও নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক আলোচনার আড়ালে জনগণের বাস্তব সমস্যাগুলো উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন, শ্রমিক–কৃষক, দরিদ্র জনগণ, নারী ও আদিবাসীরা নানাভাবে নিপীড়নের শিকার হলেও এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে না।
আলোচনায় বক্তারা ভারতের কাগার হত্যাকান্ডে অভিযুক্তদের বন্দের দাবি সহ দেশের দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি, কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, শ্রমিকদের মজুরি বৈষম্য, নারী নির্যাতন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খবির শিকদার জোর দিয়ে বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার আদায়ে শান্তিপূর্ণ ও সংগঠিত আন্দোলনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলন যশোরের সদস্য সুরাইয়া শিকদার এশার পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, সৈয়দ মোস্তফা ফারুক, রবিউল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র যুব আন্দোলনের নেতা সুমাইয়া শিকদার ইলা, রাইয়ান রশিদ আবির, নারায়ণ চন্দ্র সিংহ, কেরামত গাজী, মোখলেসুর রহমান, মোহাম্মদ রাশেদুল মধু, আব্দুল জলিল আবুবক্কার, তুজাম উদ্দিন, আব্দুল কুদ্দুস প্রমুখ। নয়া গণতান্ত্রিক গণ মোর্চা এবং বিভিন্ন প্রগতিশীল সংগঠনের নেতাকর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা শহীদ সিরাজ সিকদারসহ দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে আত্মদানকারী সকল শহীদ ও প্রয়াত নেতৃবৃন্দের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। একইসঙ্গে তাঁরা কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং সামাজিক ন্যায়বিচারের দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সভায় যশোরের প্রগতিশীল লেখক ও চিন্তাবিদ দেবু মল্লিকের গ্রেপ্তারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। তাঁর দ্রুত মুক্তির দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচি শেষে কমরেড সিরাজ সিকদারসহ সকল শহীদ ও প্রয়াত বিপ্লবীদের স্মরণে জাতীয় শহীদ দিবস পালন করা হয়।




