যশোরে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথি উৎসব

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

আজও পৃথিবী ধর্ম, জাতি, জাতীয়তা ও মতাদর্শের বিভাজনে জর্জরিত। সংঘাত, বৈষম্য ও অসহিষ্ণুতা এখনও ব্যাপক কষ্টের কারণ। এই প্রেক্ষাপটে বিবেকানন্দের সর্বজনীন ভ্রাতৃত্ববোধ এক আশার আলো। তিনি আমাদের শেখান, শান্তি কখনো জোরজবরদস্তি বা আধিপত্যের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা যায় না; এটি কেবল পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার মাধ্যমেই সম্ভব।

বিশ্বায়নের যুগে, যখন মানবসমাজ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি আন্তঃসংযুক্ত, তখন তার বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের আহ্বান আরও জরুরি হয়ে ওঠে। সহিষ্ণুতা, সহানুভূতি ও নিঃস্বার্থ সেবার মাধ্যমে ব্যক্তি ও জাতি এক ন্যায়ভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজের পথে এগোতে পারে। তাই বিশেষ দিন নয় প্রতিদিনই বিবেকানন্দের চর্চা প্রয়োজন। কারণ তার দর্শন যুবশক্তিকে আত্মবিশ্বাস, নির্ভীকতা ও সেবার মাধ্যমে চরিত্র গঠন, জাতীয় জাগরণ ও মানবকল্যাণে উদ্বুদ্ধ করে।

তিনি কখনোই মানুষকে নিজের সংস্কৃতি বা ধর্মীয় পরিচয় ত্যাগ করতে বলেননি। স্বামী বিবেকানন্দ অন্যান্য ধর্মের সহিষ্ণুতা ও গ্রহণযোগ্যতা সম্পর্কে খুবই শক্তিশালীভাবে মতপ্রকাশ করেছিলেন। তার দৃষ্টিভঙ্গি হলো সত্য এক, কিন্তু বিভিন্ন উপায়ে প্রকাশিত হয়। তিনি বিশ্বের সামনে স্মরণ করিয়েছিলেন যে কোনো এক ধর্ম সত্যের একমাত্র ধারক নয় এবং সব ধর্মই একই দৈবিক বাস্তবতার দিকে যাওয়ার বৈধ পথ।

স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৪তম জন্মতিথি উদযাপন উপলক্ষে যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের উদ্যোগে দিনব্যাপী আয়োজিত উৎসবের আলোচনা পর্বে এসব কথা বলেন বক্তারা।

তার জন্মতিথিতে শনিবার ভোরে আশ্রমের মূল মন্দিরে মঙ্গলারতির পর বেদমন্ত্র পাঠ ও প্রার্থনা, বিশেষ পূজা, হোম ও পুষ্পাঞ্জলির মধ্য দিয়ে উৎসব শুরু হয়। এরপর আশ্রম প্রাঙ্গণে আলোচনাসভা ও ভক্তিমূলক সংগীতানুষ্ঠান, শিক্ষা বৃত্তি প্রদান ও কম্বল বিতরণ শেষে প্রসাদ বিতরণের মধ্য দিয়ে এ উৎসব সমাপ্ত হয়। এছাড়াও দিন ব্যাপী বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ যশোরের পরিচালনায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়।

‘স্বামী বিবেকানন্দের জীবন ও আদর্শ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব কমলেশ মজুমদার। সভাপতিত্ব করেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশনের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দ। সম্মানিত অতিথি ছিলেন সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজের ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিধান ভদ্র। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঝিনাইদহ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত পাল। স্বাগত বক্তব্য দেন যশোর রামকৃষ্ণ আশ্রমের সহসম্পাদক স্বামী আত্মবিভানন্দ।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন নওয়াপাড়া মডেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক দেবাশীষ রাহা। আয়োজনে ভক্তিগীতি পরিবেশন করেন সঞ্জয় মল্লিক, তরুণ কান্তি হালদার বাপনসহ অন্যরা।

সকাল সাড়ে ৮টায় বিশেষ পূজা, হোম, ভজন সংগীত, ধর্ম গ্রন্থপাঠ ও পুষ্পাঞ্জলি প্রদান হয়। এদিন বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদ যশোরের পৃষ্ঠপোষকতায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ঐশ্বর্য্য নাথ তিথি, ডাক্তার তুরজয় মুখার্জী, ডাক্তার জয়প্রকাশ বসু , ডাক্তার অনিক মন্ডল ও ডাক্তার অমিত বিশ্বাস। এ কার্যক্রমের সমন্বয় করেন বিবেকানন্দ শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরিষদের সভাপতি তপন রায়, সাধারন সম্পাদক ডাক্তার জয়প্রকাশ বসুসহ অন্যরা।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয় ও মহাবিদ্যালয়ের ৪০ জন শিক্ষার্থীকে ‘স্বামী অক্ষরানন্দ ও আমেনা খাতুন বৃত্তি’ প্রদান করা হয়। এ ছাড়াও একই মঞ্চে শতাধিত শীতার্তকে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।

এদিকে স্বামী বিবেকানন্দের জন্মতিথি উৎসব উদযাপনের অংশ হিসেবে ১২ জানুয়ারি সোমবার সকাল ৯টায় যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে ফল বিতরণ করা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন অধ্যক্ষ জ্ঞানপ্রকাশানন্দ মহারাজ।

শনিবারের উৎসব আয়োজনে ভক্ত ও পূর্নার্থীদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। মানবজাতি শান্তি, সহিষ্ণুতা ও সর্বজনীন ভালোবাসার উপর ভিত্তি করে ভবিষ্যৎ নির্মাণ করতে আগতরা প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।