স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে বড় ধরনের আইনশৃঙ্খলা অভিযান পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। তিনি বলেন, ভোটকে কেন্দ্র করে দুষ্টচক্র যেন কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন, পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীকে নিয়ে সমন্বিতভাবে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জেলা প্রশাসক আশেক হাসান বলেন, আমাদের টার্গেট ছিল সব ভোটকেন্দ্রে ছয়টি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা। প্রায় সাড়ে ছয় হাজার ক্যামেরার প্রয়োজন হলেও এরই মধ্যে সাড়ে তিন হাজার ক্যামেরা ইনস্টল করা হয়েছে। পৌরসভার ৪৭টি কেন্দ্রসহ শহরের ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখার দায়িত্ব পৌরসভা পালন করবে।
তিনি আরও বলেন, ভোট নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। সরকারের অবস্থান হ্যাঁ ভোট পরিষ্কার গণভোটের পক্ষে। সামনে বড় ধরনের অভিযান হবে। সবাই নিজ নিজ দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করলে যশোরের পরিবেশ ভালো থাকবে।
ফুটপাত দখল প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক বলেন, নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হবে। শহরের যানজট নিরসনে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি জানান।
সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, যশোর শহরের যানজট এখন বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অভিযান চালালে একটি শ্রেণি মানবিকতার কথা বলে বাধা দেয়। কিন্তু শহরের স্বার্থে প্রতিদিন অভিযান চলবে। গরিব শাহ মাজার থেকে মনিহার এবং দড়াটানা থেকে জেল রোড পর্যন্ত নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অবৈধ ইজিবাইক ও রিকশাও আটক করা হবে।
সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি মেজর মারুফ বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে শার্শা ও চৌগাছা উপজেলা বাদে জেলার সব উপজেলায় সেনাবাহিনীর ক্যাম্প থাকবে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি খুব বেশি জটিল না হলে প্রথমে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেবে। প্রয়োজনে সেনাবাহিনী সরাসরি মাঠে নামবে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার বলেন, যশোরে সাম্প্রতিক দুটি হত্যাকাণ্ডের পেছনে ব্যক্তিগত শত্রুতা ও ব্যবসায়িক বিরোধ জড়িত। যুবদল নেতা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আসামি আটক করা হয়েছে। মনিরামপুরের ঘটনাটি সংবেদনশীল হওয়ায় তদন্তের স্বার্থে বিস্তারিত বলা যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, শহরে চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত অভিযান চলছে। মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও ককটেল আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি। ভোটের সময় ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে পুলিশ বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে, যা সরাসরি কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে।
সভায় আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে জোরদার অভিযান, নিপা ভাইরাস বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিদিন একটি করে যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এছাড়া, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় চত্বরে অযথা ঘোরাঘুরি ও টিকটক ভিডিও নির্মাণের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে অপ্রয়োজনীয় দর্শনার্থীরা ডিসি অফিসে প্রবেশ করতে পারবেন না। তবে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে কার্যালয় চত্বর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সভায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানার সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন, ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাকিব রাসেল, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন, ৪৯ বিজিবির উপপরিচালক সোহেল আলীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।




