বিভিন্ন দল ক্ষমতায় গিয়ে জনগণকে ক্ষমতায়িত করেনি: ডা. শফিকুর রহমান

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘স্বাধীনতা অর্জনের ৫৪ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ক্ষমতায় গিয়ে বারবার সুযোগ পেয়ে নিজেরাই ক্ষমতাবান হয়েছে, জনগণকে ক্ষমতায়িত করেনি। তারা শুধু কোটি কেটি টাকা লুট করেছে। মেগা প্রকল্পের নামে মেগা দুর্নীতি করেছে। ইতোপূর্বে যারা ক্ষমতায় ছিল, জনগণ অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যাদের তাড়িয়েছেন। তারা ২৮ লাখ কেটি টাকা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে দেশে কোনও দুর্নীতি হতে দেবো না।’

তিনি বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১১টায় নওগাঁ এটিম মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, ‘আমরা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বা কোনও গোষ্ঠী অথবা কোনও বিশেষ শ্রেণির মানুষের বিজয় চাই না। আমরা ১৮ কোটি মানুষের বিজয় চাই। আর ১৮ কোটি মানুষের বিজয় নিশ্চিত করতে হলে জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিতে হবে।

‘যে আশা-আকাঙ্ক্ষা নিয়ে ২৪-এ গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমেছিল, রক্ত দিয়েছিল– তাদের সে আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি। তাদের সে আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে না পারলে প্রকৃত গণতন্ত্র মানুষের মুক্তি আসবে না।’

সম্প্রতি এক্স অ্যাকাউন্টে (সাবেক টুইটার) নারীদের নিয়ে তার ভাইরাল বক্তব্য নিয়ে তিনি বলেন, পাঁচ দিন ধরে আমার ওপর মিসাইল মারা হচ্ছে। আমার এক্স আইডি হ্যাক করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা করে যারা ফায়দা হাসিল করতে চায়, তারা দেশকে গোলাম বানাতে চায়। তারা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায় না, পরিবারতন্ত্র বজায় রাখতে চায়। অথচ আমরা একসঙ্গে লড়াই করেছি, তারাই আমাকে মিসাইল মেরেছে। আমি তাদের ক্ষমা করে দিলাম।’

কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা বেকার ভাতা দিয়ে জাতিকে পঙ্গু করতে চাই না। যুব সমাজকে পর্যাপ্ত শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের হাতে কাজ তুলে দিতে চাই। তারা দেশে-বিদেশে কাজ করে দেশের জন্য সম্মান বয়ে আনবে।’

জামায়াত আমির আগামী নির্বাচনে জয়লাভ করলে নওগাঁয় চার লেন সড়ক নির্মাণ, পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নির্মাণের অঙ্গীকার করেন। এ ছাড়াও তিনি নওগাঁকে কৃষিপ্রধান পুরো উত্তরাঞ্চলের কৃষি গবেষণাকেন্দ্রের রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি বলেন, ‘নওগাঁ এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা আম ও লিচু উৎপাদনের জন্য প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার দাবি রাখে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে সে দাবি পূরণ করবে।’ এ ছাড়াও তিনি নওগাঁয় ধান ও ফল গবেষণা ইনস্টিটিউট এবং কৃষিভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

জেলা আমির খ ম আব্দুর রাকিবের সভাপতিত্বে আয়োজিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন  জামায়াতে ইসলামী নেতা ব্যারিস্টার এএসএম শাহরিয়ার কবির, দলের রাজশাহী অঞ্চল প্রধান অধ্যক্ষ শাহাব উদ্দিন, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মাহবুবুল আলম, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী আ স ম সায়েম, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী মাস্টার খবিরুল ইসলাম, শরিক দল এবি পার্টির নেতা অ্যাডভোকেট কাজী আতিকুর রহমান, জুলাইযোদ্ধা ফিরোজ হোসেন এবং ২৪-এর শহীদ শারমিনের মা।