‘ভোটকেন্দ্রে জালিয়াতির ইচ্ছে থাকলেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়’

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক

ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া নতুন নির্দেশনার সমালোচনা করেছেন হাসনাত আবদুল্লাহ। এমন সিদ্ধান্তকে ‘হঠকারী’ এবং ‘ভোট জালিয়াতির সুযোগ করে দেওয়ার কৌশল’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।

সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মনোনীত ও জামায়াতসহ ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য সমর্থিত প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ এসব কথা লেখেন।

ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের অর্থ হলো সবাইকে নিজের মোবাইল ঘরে রেখে যেতে হবে। এমনকি কোনো মোজো সাংবাদিক বা সিটিজেন জার্নালিজমও অ্যালাউড না। এটা স্পষ্টত হঠকারী সিদ্ধান্ত। ইঞ্জিনিয়ারিং বা জালিয়াতি করার ইচ্ছে থাকলেই কেবল এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।’

তিনি আরও লেখেন, ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল নিয়ে না যাওয়ার কোনো লজিক নেই। এমনটা আগে কখনো দেখিনি। এটার মানে কোনো বিপদ হইলেও কল করে কাউকে জানানো যাবে না। অনেকে নিরাপত্তাহীনতার জন্য মোবাইল নিতে না পারলে ভোট দিতেও যাবে না।

হাসনাত আব্দুল্লাহ লেখেন, ‘সিসি ক্যামেরা থাকলেও তাৎক্ষণিক কোনো কাজে দেবে না। মোবাইলের মাধ্যমে সাংবাদিকরা যেভাবে ভূমিকা রাখতে পারবে, অনিয়ম জালিয়াতির চিত্র দেখাতে পারবে তা ক্যামেরা পারবে না। কেন্দ্র দখল-ভোট চুরি ঠেকাতে ব্যক্তিগত ফোন কার্যকর হবে।’

তিনি লেখেন, ‘সাথে সাথেই ভিডিও রেকর্ড হয়ে যাবে। হয়ত এসব জালিয়াতির ভিডিও কেউ করতে না পারে সেজন্য ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করেছে নির্বাচন কমিশন। এটা সুস্পষ্টভাবে ভোট চুরির সুযোগ করে দেওয়া। অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা উচিত।’

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নতুন আইন জারি করেছে ইলেকশন কমিশন (ইসি)। প্রিসাইডিং অফিসারসহ তিন ধরনের ব্যক্তি ছাড়া কেউ ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিয়ে যেতে পারবে না। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে নির্দেশনা পাঠিয়েছেন ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ (চারশত) গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিসাইডিং অফিসার; ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ইনচার্জ এবং ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার/ভিডিপির ‘নির্বাচন সুরক্ষা ২০২৬’ অ্যাপ্লিকেশন ব্যবহারকারী দুইজন আনসার সদস্য ব্যতীত কেউ মোবাইল নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন না।

অধিকাংশ সাংবাদিক ফটো ও রেকর্ডিং কাজে ফোন ব্যবহার করে থাকেন ভোটগ্রহণের দিন। ফলে এসব সাংবাদিকেরা বিপাকে পড়বেন। ফোন ব্যবহারে এমন নির্দেশনা প্রথম জারি করলো ইসি।