স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ৩৭ জন বৈধ প্রার্থীর মধ্যে ২৪ জন জামানত হারিয়েছেন। তারা প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগ ভোট অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া ৫০ হাজার টাকা করে জামানত ফেরত পাবেন না।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোটগ্রহণ শেষে গভীর রাতে বেসরকারি ফলাফল ঘোষণা করেন যশোর জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশেক হাসান। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, অধিকাংশ আসনেই দুই প্রধান দলের প্রার্থীদের বাইরে অন্য প্রার্থীরা উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে ব্যর্থ হয়েছেন।
যশোর-১(শার্শা) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ১৯ হাজার ৬২৬। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ২৭ হাজার ৪৫৩ ভোট। ৪ প্রার্থীর মধ্যে জাতীয় পার্টির মো. জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল ১ হাজার ৩৯৮ ভোট ও ইসলামী আন্দোলনের মো. বক্তিয়ার রহমান ১ হাজার ৭৬৮ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন।
এখানে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মুহাম্মদ আজীজুর রহমান ১ লাখ ১৯ হাজার ৯৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো. নুরুজ্জামান লিটন পান ৯৩ হাজার ৫৪২ ভোট।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৩ লাখ ৪১ হাজার ৯৮৫। প্রয়োজনীয় ভোট ছিল ৪২ হাজার ৭৪৮। ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন জামানত হারান। এরা হলেন মো. ইদ্রিস আলী (প্রাপ্ত ভোট ৫,৭৮১), মো. ইমরান খান (প্রাপ্ত ভোট ৪৭২), মো. জহুরুল ইসলাম (প্রাপ্ত ভোট ১৮৮), মেহেদী হাসান (প্রাপ্ত ভোট ৩৮৯), মো. শামছুল হক (প্রাপ্ত ভোট ২৩৩) ও রিপন মাহমুদ (প্রাপ্ত ভোট ৪১৬)।
বিজয়ী হন জামায়াত মনোনীত মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ ১ লাখ ৮০ হাজার ৯৬৫ ভোট। বিএনপির মোছা. সাবিরা সুলতানা পান ১ লাখ ৪৬ হাজার ৪৪৭ ভোট।
যশোর-৩(সদর) আসনে ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৯৮ ভোটের মধ্যে জামানত রক্ষার সীমা ছিল ৫১ হাজার ৯৬২। ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৪ জন জামানত হারান। এরা হলেন মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (প্রাপ্ত ভোট ১৩,৩২২), মো. খবির গাজী (প্রাপ্ত ভোট ৩,৪০৪), মো. নিজামদ্দিন অমিত (প্রাপ্ত ভোট ১,৭৭২) ও মো. রাশেদ খান (প্রাপ্ত ভোট ৭৫৩)।
বিএনপির অনিন্দ্য ইসলাম অমিত ২ লাখ ১হাজার ৩৩৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। জামায়াতের মো. আব্দুল কাদের পান ১ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৩ ভোট।
যশোর-৪(বাঘারপাড়া-অভয়নগর-বসুন্দিয়া) আসনে মোট ভোট ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৮০। প্রয়োজন ছিল ৪১ হাজার ৪২২ ভোট। ৮ প্রার্থীর মধ্যে ৬ জন জামানত হারান।এরা হলেন এম. নাজিম উদ্দীন আল-আজাদ (প্রাপ্ত ভোট ৭৯৭), বায়েজীদ হোসাইন (প্রাপ্ত ভোট ১১,৮৩৮), মাও. আশেক এলাহী (প্রাপ্ত ভোট ৩০১), মো. আবুল কালাম গাজী (প্রাপ্ত ভোট ২৫৭), মো. জহুরুল হক (প্রাপ্ত ভোট ১,৭৫১) ও সুকৃতি কুমার মন্ডল (প্রাপ্ত ভোট ১,৫১০)।
জামায়াতের মো. গোলাম রসুল ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯১২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির মতিয়ার রহমান ফারাজী পান ১ লাখ ৩১ হাজার ৯১৭ ভোট।
যশোর-৫(মনিরামপুর) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৮৬ হাজার ৩২০। প্রয়োজনীয় ভোট ছিল ৩৫ হাজার ৭৯০। ৬ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারান। এরা হলেন এম এ হালিম (প্রাপ্ত ভোট ২,২৪৫), মো. কামরুজ্জামান (প্রাপ্ত ভোট ২,১০৩) ও মো. জয়নাল আবেদিন (প্রাপ্ত ভোট ৪,৪০০)।
জামায়াতের গাজী এনামুল হক ১লাখ ৩২ হাজার ৮৭৫ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ মো. ইকবাল হোসেন পান ৮৫ হাজার ৪৫ ভোট এবং বিএনপির রশীদ আহমাদ পান ৫৪ হাজার ৮৭৫ ভোট।
যশোর-৬(কেশবপুর) আসনে মোট প্রদত্ত ভোট ৭৮ হাজার ৫০৮। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ছিল ২২ হাজার ৩১৩ ভোট। ৫ প্রার্থীর মধ্যে ৩ জন জামানত হারান। এরা হলেন জি. এম. হাসান (প্রাপ্ত ভোট ৯৯০), মো. মাহমুদ হাসান (প্রাপ্ত ভোট ৬৭২) ও মো. শহিদুল ইসলাম (প্রাপ্ত ভোট ১,২৮৫)।
জামায়াতের মো. মোক্তার আলী ৯২ হাজার ২৩৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। বিএনপির মো. আবুল হোসেন আজাদ পান ৫৪ আজার ৮৭৫ ভোট।
নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী প্রদত্ত মোট ভোটের আট ভাগের এক ভাগের কম ভোট পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবারের নির্বাচনে যশোরের ছয়টি আসনে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী এই শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।






