স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
যশোরে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলা, স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, উন্নয়ন কার্যক্রম ত্বরান্বিতকরণ ও অবকাঠামো পরিকল্পনা নিয়ে মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
সভায় জেলা প্রশাসক তার বক্তব্যে বলেন, যশোরে সাম্প্রতিক নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রায় ৭৩ শতাংশ ভোট কাস্টিং হয়েছে এটি জেলার জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। তিনি এ সফলতার জন্য সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, ডেঙ্গু এখন চরিত্র বদল করেছে। তাই আমাদের দ্রুত সমন্বিত অ্যাকশন প্ল্যান নিতে হবে। পৌর এলাকায় পরিচ্ছন্নতা বাড়াতে হবে এবং মশক নিধন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক জানান, জেলা পরিষদের অর্থায়নে দুস্থদের জন্য বড় পরিসরে রেবিস ভ্যাকসিন ও অ্যান্টিভেনম সরবরাহের প্রকল্প নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
উন্নয়ন পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি বলেন, ঝিকরগাছা ও চৌগাছায় আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণ, গদখালীতে রেস্ট হাউস স্থাপন এবং ঐতিহাসিক গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোডের যশোর অংশ প্রশস্ত ও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আরও জানান, ভোটের কারণে স্থগিত থাকা বিভিন্ন মেলা পুনরায় আয়োজন করা হবে। ঝিকরগাছায় ফুলের মেলা এবং চৌগাছায় খেজুর গুড় ও কৃষি মেলা দ্রুত আয়োজনের নির্দেশ দেন তিনি।
যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, পৌর এলাকায় মশক নিধন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পৌর এরাকায় ছোট-বড় প্রায় ৩০টি রাস্তার উন্নয়ন কাজ চলছে।
সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা জানান, বর্তমানে কুকুরের তুলনায় বিড়ালের আঁচড়ের ঘটনা বেশি ঘটছে। তাই বিড়াল পালনে সচেতনতা ও ভ্যাকসিন নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি। এছাড়া আগামী কয়েক দিনের মধ্যে জেলার সাত উপজেলায় সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ৪৯ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যোগদান করবেন।
যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন শাফায়েত জানান, গত মাস থেকে হাসপাতালে পর্যাপ্ত রেবিস ভ্যাকসিন সরবরাহ নেই। মাসে প্রায় ৫০০ ডোজ পাওয়া গেলেও প্রয়োজন অন্তত দেড় হাজার ডোজ।
মৎস্য কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম জানান, চাঁচড়ার পোনা বিক্রয় কেন্দ্র ব্যবহার হচ্ছে না। কই মাছকে জিআই স্বীকৃতির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হবে এবং বুকভরা বাওড়ের ৩০০ একর এলাকাকে মাছের অভয়ারণ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসময় বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা নিজ নিজ বিভাগের অগ্রগতি ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এতে স্বাস্থ্য, মৎস্য, স্থানীয় সরকার ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ নানা বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার সঞ্চালনা করেন। এছাড়া জেলা পরিষদের কর্মকর্তা, সিভিল সার্জন, পৌর প্রশাসক, বিভিন্ন দপ্তরের নির্বাহী কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।







