বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২৬
Homeসারাদেশদক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলযশোরের দর্জিবাড়িতে জমজমাট ‘ঈদের কারুকাজ’

যশোরের দর্জিবাড়িতে জমজমাট ‘ঈদের কারুকাজ’

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
ব্যস্ত নাগরিক জীবনে শপিংমলে ঝোলানো রেডিমেড পোশাকের হাতছানি থাকলেও, ঈদের সকালে ‘নিখুঁত ফিটিং’ আর ‘ইউনিক ডিজাইনের’ জন্য যশোরের ফ্যাশন সচেতনদের প্রথম পছন্দ এখনো দর্জিবাড়ির বানানো পোশাক। গতানুগতিক ছাঁচের ভিড়ে নিজেকে আলাদা করতে টেইলার্সগুলোতে এখন দম ফেলার ফুসরত নেই কারিগরদের। সকালের সূর্য ওঠার আগেই শুরু হওয়া সেলাই মেশিনের ছন্দ চলছে সেহরি পর্যন্ত।

দিনরাত এক করে কারিগরদের ব্যস্ততা শহরের দর্জিপাড়াগুলো ঘুরে দেখা গেছে উৎসবের এক ভিন্ন আমেজ। কেউ কাঁচি চালাচ্ছেন নিখুঁত মাপে কাপড় কাটতে, কেউ ব্যস্ত সেলাইয়ে, আবার কেউবা গ্রাহকের ট্রায়াল সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। শহরের বেশিরভাগ টেইলার্সে সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত কাজ চললেও, কাজের চাপে অনেক কারিগর মাঝরাত অবধি জেগে থাকছেন। সেহরির বিরতি আর সামান্য ঘুমের পর আবারও শুরু হচ্ছে ব্যস্ততা।

অঙ্গশোভা টেইলার্সের দর্জি মুরাদ হোসেন বলেন, কাজের চাপ বাড়ছে। সামনে রোজা বাড়লে হয়তো সারারাতই জেগে থাকতে হবে।

একই সুরে কথা বলেন একটিভ টেইলার্সের শফিয়ার রহমান, তার মতে ১২ থেকে ১৫ রোজার পর অর্ডার আরও কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। খাটো কামিজ ও স্ট্রেইট সালোয়ার এবারের ঈদের ফ্যাশনে এসেছে নতুনত্বের ছোঁয়া।

দর্জিদের তথ্যমতে, গত কয়েক বছরের ‘লং কামিজ’-এর রাজত্ব কমিয়ে এবার মেয়েরা ঝুঁকছেন হাঁটু বরাবর ঝুল (খাটো কামিজ) এবং স্ট্রেইট সালোয়ারের দিকে।পোশাকের ধরনজনপ্রিয় ডিজাইনতরুণীখাটো কামিজ, পাকিস্তানি ও ভারতীয় কাট, সারারা, গারারা ও নায়রা।কিশোরী ও শিশুগাউন, জিপসি, আনারকলি ও বাহারি ডিজাইনের ফ্রক।পুরুষবৈচিত্র্যময় ডিজাইনের পাঞ্জাবি ও কাবলি সেট।

বাড়েনি মজুরি, বেড়েছে কারিগরদের বেতনদ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে স্বস্তির খবর দিয়েছেন যশোর পোশাক তৈরি ব্যবসায়ী সমিতির যুগ্ম সম্পাদক ও মডার্ন টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী রুহুল আমিন। তিনি জানান, ২০২৩ সালের মজুরি তালিকা অনুযায়ীই এবারের কাজ চলছে। খরচ বাড়লেও সাধারণ মানুষের কথা ভেবে আমরা পোশাক তৈরির মজুরি বাড়াইনি। অথচ কারিগরদের ধরে রাখতে তাদের বেতন বৃদ্ধি করতে হয়েছে, যোগ করেন তিনি।

বর্তমান মজুরি সালোয়ার কামিজ ৩০০ – ৭০০ (কাপড় ভেদে)পাঞ্জাবি ও জুব্বা: ৫০০ – ৮০০টাকা ,কাবলি সেট ১,১০০ টাকা, গাউন ও আনারকলি ৭৫০ – ১,৬০০ টাকা, প্যান্ট (ফরমাল/জিন্স) ৫৫০ – ৬০০টাকা।

অধিকাংশ টেইলার্সে ১৫ থেকে ২০ রোজা পর্যন্ত অর্ডার নেওয়া হচ্ছে। তবে গ্রাহকের চাপ বুঝে কিছু দোকান ২২ রোজা পর্যন্ত সময় বাড়িয়েছে।

ঝিলিক টেইলার্সের আব্দুল কাদের জানান, এবার থ্রি-পিসের অর্ডার সবচেয়ে বেশি।রেডিমেড পোশাকের ভিড়েও নিজের রুচি আর মাপের সমন্বয়ে ঈদকে রঙিন করতে যশোরের বাসিন্দারা আজও ভরসা রাখছেন দর্জিবাড়ির সেই চিরচেনা কারিগরদের ওপরই।

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয়