বুধবার, মার্চ ২৫, ২০২৬
Homeসারাদেশদক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলপ্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা

প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মামলা

স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
স্বল্প সুদের লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মাহমুদা খাতুন নামে এক নারীর বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে।

শনিবার (৭ মার্চ) রাতে যশোর সদর উপজেলার বারীনগর বানিয়ালি গ্রামের ইউসুফ আলী বিশ্বাসের ছেলে আব্দুস সোবহান বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলার আসামি মাহমুদা খাতুন সদর উপজেলার বসুন্দিয়া মোড় এলাকার মৃত ডাক্তার মনসুর আলীর মেয়ে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, মাহমুদা খাতুন পূর্বে যশোরের ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করতেন। সেই সূত্রে বাদীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে তিনি ওই চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় ‘মাইডাস ফাইন্যান্সিং লিমিটেড’ নামের একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে চাকরি নেওয়ার কথা জানান এবং সেখান থেকে বিভিন্ন লোকজনকে মোটা অঙ্কের লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।

তিনি দাবি করেন, লোনের বিপরীতে শতকরা দুই ভাগ হারে লভ্যাংশ দিতে হবে এবং ১০ থেকে ১২ বছর পর লোন পরিশোধ করতে হবে। তার কথায় বিশ্বাস করে আব্দুস সোবহান বিষয়টি বিভিন্ন পরিচিতজনকে জানান।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ অক্টোবর পর্যন্ত যশোর শহরের চৌরাস্তার রিচম্যান শোরুমে বসে মাহমুদা খাতুন ৩২ জনের কাছ থেকে মোট ৭০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন। তাদের প্রত্যেককে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোন পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এ সময় প্রত্যেকের কাছ থেকে ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর এবং তিন থেকে চারটি করে ফাঁকা চেক নেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার এক মাসের মধ্যে লোন দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও কোনো লোনের ব্যবস্থা করতে পারেননি মাহমুদা। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তিনি ফোন রিসিভ না করে নানা অজুহাত দিতে থাকেন এবং যশোরে তার দেখা মেলেনি।

গত ৭ মার্চ সকালে যশোর শহরের দড়াটানা এলাকায় ‘খেলাঘর’ নামের একটি দোকানের সামনে মাহমুদা খাতুনকে দেখতে পেয়ে ভুক্তভোগীরা ৭০ লাখ টাকা ফেরত দাবি করেন। কিন্তু তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এ সময় খবর পেয়ে আরও অনেক ভুক্তভোগী সেখানে উপস্থিত হন। পরে জানা যায়, শত শত মানুষের কাছ থেকে একইভাবে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাহমুদা খাতুনকে তার ছেলে তন্ময় জামানসহ আটক করে থানায় নিয়ে যায়। এরপর শত শত ভুক্তভোগী থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে অভিযোগ করেন।

পরে টাকা উদ্ধার করতে না পেরে আব্দুস সোবহান লিখিত অভিযোগ দিলে শনিবার রাতে সেটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়।

যশোর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমেদ জানান, মাহমুদা খাতুনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব উপ-পরিদর্শক (এসআই) আশরাফুল আলমকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এই বিভাগের আরো খবর

জনপ্রিয়