মেহেদী হাসান বিশেষ প্রতিনিধি// আজকের এই দিনে দেশের উপকূলীয় জনপদে আঘাত হেনেছিল প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’। মুহূর্তেই লণ্ডভণ্ড হয়ে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা।মানুষ-গবাদিপশুর মরদেহ, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি- সেদিন যেন নরক নেমে এসেছিল উপকূলে। ১২ বছর কেটে গেছে সেদিনের- তবে এখনো ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি ক্ষতিগ্রস্ত বহু পরিবার। তারওপর এবার ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে অনেকের।২০০৯ সালের ২৫শে মে সকাল থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বইতে থাকে প্রবলবৃষ্টি ও ঝড়ো হাওয়া।বেলা ১১টা নাগাদ খুলনা, সাতক্ষীরা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, ভোলাসহ উপকূলের ১১ জেলায় আছড়ে পড়ে ঘূর্ণিঝড় আইলা। মুহূর্তেই বিস্তীর্ণ জনপদ করে দেয় লণ্ড-ভণ্ড।প্রাণ হারায় প্রায় ২শ জন। আহত হন ৭ হাজারের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত হয় ১ হাজার ৪শ’ মিটার বেড়িবাঁধ। ভেঙ্গে পড়ে ৫ লক্ষাধিক বসত ঘর। ভেসে যায় মাছের ঘের, ফসলি জমি।এক যুগেও উপকূলীয় সেসব এলাকায় শুকায়নি আইলার তাণ্ডবের চিহ্ন। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক পরিবার ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি এখনো। ক্ষতিগ্রস্থরা জানান,’আইলার পর দু বছর পানি থাকার কারণে ধান পানও হয়নি। বাড়িতে কোন গাছ গাছালি নেই।প্রতিটি প্রাকৃতিক দুর্যোগেই ব্যাপক ক্ষতিতে পড়েন উপকূলবাসী। এবারও আসছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের আঘাত, এ নিয়ে চিন্তিত তারা। জানান,’ঘূর্ণিঝড় ঠেকাতে গেলে ভালো রাস্তা ও বাঁধ দরকার। টেকসই বেড়িবাঁধ করলে ভালোভাবে বেঁচে থাকতে পারবো।’প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত ও সুরক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করার আহ্বান ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের।



