চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি// এবার হলুদ-মরিচের মোড়কের মধ্যে হেরোইন পাওয়া গেছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়িয়ে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যেতে অভিনব এই কৌশল নিয়েছে কারবারিরা।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে মসলার মোড়কভর্তি হেরোইনসহ এক নারীকে গ্রেপ্তারের পর গোয়েন্দা পুলিশ জানিয়েছে, চক্রটির প্রধান ছাব্বিশ বছরের তরুণ আরিফের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে সাতাশটি। ভারত থেকে চালান এনে বিক্রয় প্রতিনিধির মাধ্যমে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে হেরোইনের ব্যবসা করছেন তিনি।পপি ফুলগাছ থেকে তৈরি হয় ভয়াবহ মাদক আফিম ও হেরোইন।
পপির ফল পরিপক্ক হলে বিশেষ কায়দায় কষ সংগ্রহ করে আগুনে জ্বাল দিলে তৈরি হয় ব্রাউন সুগার বা আফিম। আরও প্রক্রিয়াজাত করে বানানো হয় হোয়াইট সুগার বা হেরোইন।দেশে উৎপাদন না হলেও অভাব নেই হেরোইনের। ভারত থেকে নিয়মিত চালান আনছে মাদক কারবারিরা। বেশিরভাগ চালান ঢুকছে রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত দিয়ে। তারপর অভিবন কৌশলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে হেরোইন।সারি সারি সাজানো মোড়কগুলোর একটিতেও নেই হলুদ কিংবা মরিচের গুড়া। প্রতিটিতেই হেরোইন। প্রথম বারের মতো মসলার মোড়কের মধ্যে থেকে হেরোইন উদ্ধারের পর পুলিশ জানিয়েছে, খুচরা বিক্রির জন্য ফয়েল পেপারে মুড়িয়ে ছোট ছোট পুরিয়া হিসেবে মোড়কজাত করা হয়েছে।
আর পাইকারি বিক্রির জন্য ঢোকানো হয়েছে গুড়া আকারে। মসলার মোড়কে এগারো লাখ টাকা মূল্যমানের দুইশো বিশ গ্রাম হেরোইনসহ পারভীনকে গ্রেপ্তারের পর কর্মকর্তারা জানান, মোহাম্মদপুরে নিজের বাসায় হেরোইন মোড়কজাত করে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করতেন তিনি।ঢাকা মহানগর পুলিশ গোয়েন্দা বিভাগ (লালবাগ) উপ কমিশনার রাজীব আল মাসুদ বলেন,’মসলার প্যাকেটে হেরোইন পাচার করতো। ইনট্যাক্ট প্যাকেট। যে কেউ দেখলে বুঝবে মসলার প্যাকেট আসলে ভেতরে হেরোইন।
তেজগাঁও এলাকায় এই মাদক সাপ্লাই দিতো।পারভীনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে কর্মকর্তারা জানান, হেরোইনের এই চক্রটির হোতা শরীয়তপুরের আরিফ। ছাব্বিশ বছর বয়সেই তার নামে রয়েছে সাতাশটি মাদকের মামলা। একাধিকবার গ্রেপ্তার হলেও জামিনে ছাড়া পেয়ে প্রতিবারই যুক্ত হয়েছেন মাদক ব্যবসায়। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পারভীনের মতো আরও অনেক বিক্রয় প্রতিনিধি রয়েছে আরিফের।
রাজীব আল মাসুদ আরও জানান,’আমরা কয়েকজনের নাম পেয়েছি। তদন্তের স্বার্থে নামগুলো প্রকাশ করছি না। এ চক্রের মূলহোতা আরিফ। আরিফের নামে ২৭টিরও বেশি মামলা রয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপে সে ইন্ডিয়ান নাম্বার ইউজ করে।
তাই তাকে আইডেন্টিফাই করা একটু টাফ হয়ে গেছিল। তবে সে আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর চেয়ে স্মার্ট নয়। যতই কৌশল পরিবর্তন করুক আমরা তাদেরকে ধরে ফেলবো।’আরিফের সঙ্গে বাংলাদেশ ও ভারতের মাদক ব্যবসায়ীদের যোগাযোগ রয়েছে। তাকে ধরতে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে পুলিশ।







