Jashore , Thursday, 29 October 2026
সর্বশেষ:

নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই পরিষদ ভবনে বসবাস করছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান

জান্নাত ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি// নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই পরিষদ ভবনে বসবাস করছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। এমনকি পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও তিনি ওই ভবনেই থাকছেন।

তার দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগণকে সার্বক্ষণিক সেবা দিতেই ওই ভবনে অবস্থান করছেন।এই জনপ্রতিনিধির নাম মো. গোলাম সরোয়ার বাবুল। তিনি জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার ১নং পাড়েরহাট ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।

পরপর ২ বার পরাজিত হওয়ার পর গত ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন।ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষ দখল করে সেখানেই বাস করছেন বাবুল। কক্ষের সামনেই খাঁচার মধ্যে রয়েছে পোষা ময়না। এমনকি পরিষদ ভবনের ছাদে রোপণ করেছেন ফলের গাছ। কক্ষের মধ্যে টেলিভিশন ও ফ্রিজসহ অন্যান্য মালামালও আছে।

সম্প্রতি পাড়েরহাট ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে গিয়ে স্ত্রীসহ ইউপি চেয়ারম্যান বাবুলকে তার কক্ষে পাওয়া যায়। ইউপি ভবনের সামনেই রাখা ছিল তার ব্যক্তিগত গাড়ি।নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসবাসের কথা স্বীকার করেন বাবুল। তবে, তার দাবি ভবনের একটি কক্ষে একাই থাকেন তিনি।এ ব্যাপারে বাবুল জানান বলেন, খুলনায় তার ব্যবসা আছে এবং তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে বাস করেন।

তবে, গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় স্থানীয় ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- সবসময় তাদের পাশে থাকবেন। সেই প্রতিশ্রুতি থেকেই তিনি ওই ভবনের একটি কক্ষে সবসময় থাকছেন। এজন্য তিনি কক্ষটিকে নিজের মতো করেই সাজিয়েছেন।তার দাবি, ইউপি ভবনের ওই কক্ষটি ফাঁকা থাকায় তিনি সেটি ব্যবহার করছেন।

এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলেই জানেন।এছাড়া, তার ইউনিয়নের অধিকাংশ বাসিন্দা শ্রমিক হওয়ায় দিনের বেলা পরিষদে আসলে তাদের কাজে ক্ষতি হয়। এজন্য রাতের বেলা সহজেই মানুষ কাজের ক্ষতি না করে তার কাছ থেকে সেবা গ্রহণ করতে পারেন বলেও দাবি ইউপি চেয়ারম্যান বাবুলের।

এ বিষয়ে ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন্নেসা খানম ডেইলি বাংলাদেশ টুডে ডটকম কে বলেন, ‘ইউপি ভবনে আবাসিকভাবে বসবাসের কোনো সুযোগ নেই। আমার জানা মতে, বাবুল একটি কক্ষ বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করেন। সেখানে রাতের বেলায় তিনি থাকেন না। তবুও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক চৌধুরী রওশন ইসলাম জানান, যেহেতু ইউনিয়ন পরিষদ সরকারি ভবন। তাই এটি আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেব।ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. বাবুল খান বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি ইউপি ভবনে স্থায়ীভাবে বাস করেন তা তার জানা ছিল না।

তার দাবি জনগণের টাকায় তিনি বিভিন্ন ধরণের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। তাই বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।তবে, বাবুলের সমর্থকদের দাবি- ইউপি চেয়ারম্যান ইউপি ভবনে থাকায় তারা উপকৃত হচ্ছেন।চেয়ারম্যানের কাছে রাত দুপুরে গিয়েও সেবা পাওয়া যায় বলে দাবি বাবুলের সমর্থক মো. সাখাওয়াত হোসেন সিকদারের।

Tag :

Please Share This Post in Your Social Media

About Author Information
Update Time : 06:54 pm, Sunday, 31 October 2021
27 Time View

নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই পরিষদ ভবনে বসবাস করছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান

Update Time : 06:54 pm, Sunday, 31 October 2021

জান্নাত ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি// নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই পরিষদ ভবনে বসবাস করছেন এক ইউপি চেয়ারম্যান। এমনকি পরবর্তী নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরও তিনি ওই ভবনেই থাকছেন।

তার দাবি, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগণকে সার্বক্ষণিক সেবা দিতেই ওই ভবনে অবস্থান করছেন।এই জনপ্রতিনিধির নাম মো. গোলাম সরোয়ার বাবুল। তিনি জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার ১নং পাড়েরহাট ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান।

পরপর ২ বার পরাজিত হওয়ার পর গত ইউপি নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে বিজয়ী হন।ইউনিয়ন পরিষদের দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষ দখল করে সেখানেই বাস করছেন বাবুল। কক্ষের সামনেই খাঁচার মধ্যে রয়েছে পোষা ময়না। এমনকি পরিষদ ভবনের ছাদে রোপণ করেছেন ফলের গাছ। কক্ষের মধ্যে টেলিভিশন ও ফ্রিজসহ অন্যান্য মালামালও আছে।

সম্প্রতি পাড়েরহাট ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে গিয়ে স্ত্রীসহ ইউপি চেয়ারম্যান বাবুলকে তার কক্ষে পাওয়া যায়। ইউপি ভবনের সামনেই রাখা ছিল তার ব্যক্তিগত গাড়ি।নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে বসবাসের কথা স্বীকার করেন বাবুল। তবে, তার দাবি ভবনের একটি কক্ষে একাই থাকেন তিনি।এ ব্যাপারে বাবুল জানান বলেন, খুলনায় তার ব্যবসা আছে এবং তিনি সেখানেই স্থায়ীভাবে বাস করেন।

তবে, গত নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সময় স্থানীয় ভোটারদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন- সবসময় তাদের পাশে থাকবেন। সেই প্রতিশ্রুতি থেকেই তিনি ওই ভবনের একটি কক্ষে সবসময় থাকছেন। এজন্য তিনি কক্ষটিকে নিজের মতো করেই সাজিয়েছেন।তার দাবি, ইউপি ভবনের ওই কক্ষটি ফাঁকা থাকায় তিনি সেটি ব্যবহার করছেন।

এ বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সকলেই জানেন।এছাড়া, তার ইউনিয়নের অধিকাংশ বাসিন্দা শ্রমিক হওয়ায় দিনের বেলা পরিষদে আসলে তাদের কাজে ক্ষতি হয়। এজন্য রাতের বেলা সহজেই মানুষ কাজের ক্ষতি না করে তার কাছ থেকে সেবা গ্রহণ করতে পারেন বলেও দাবি ইউপি চেয়ারম্যান বাবুলের।

এ বিষয়ে ইন্দুরকানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুৎফুন্নেসা খানম ডেইলি বাংলাদেশ টুডে ডটকম কে বলেন, ‘ইউপি ভবনে আবাসিকভাবে বসবাসের কোনো সুযোগ নেই। আমার জানা মতে, বাবুল একটি কক্ষ বিশ্রামের জন্য ব্যবহার করেন। সেখানে রাতের বেলায় তিনি থাকেন না। তবুও বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছি।

এদিকে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক চৌধুরী রওশন ইসলাম জানান, যেহেতু ইউনিয়ন পরিষদ সরকারি ভবন। তাই এটি আবাসিক ভবন হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ নেই। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে আইনি ব্যবস্থা নেব।ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. বাবুল খান বলেন, একজন জনপ্রতিনিধি ইউপি ভবনে স্থায়ীভাবে বাস করেন তা তার জানা ছিল না।

তার দাবি জনগণের টাকায় তিনি বিভিন্ন ধরণের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করছেন। তাই বিষয়টি তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।তবে, বাবুলের সমর্থকদের দাবি- ইউপি চেয়ারম্যান ইউপি ভবনে থাকায় তারা উপকৃত হচ্ছেন।চেয়ারম্যানের কাছে রাত দুপুরে গিয়েও সেবা পাওয়া যায় বলে দাবি বাবুলের সমর্থক মো. সাখাওয়াত হোসেন সিকদারের।