মঙ্গলবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬
Homeজাতীয়মন্ত্রিসভা: অমিতসহ আলোচনায় যারা

মন্ত্রিসভা: অমিতসহ আলোচনায় যারা

দীর্ঘ আড়াই যুগ পর নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসন পাওয়া বিএনপি দু-এক দিনের মধ্যেই সরকার গঠন করবে বলে আভাস পাওয়া গেছে। স্বাভাবিকভাবে সাধারণের মাঝে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় কারা স্থান পেতে যাচ্ছেন? যশোর তথা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে নতুন মন্ত্রিসভায় কোনো সদস্য থাকবেন কি না, বা থাকলেও তারা কারা তা নিয়েও আছে জল্পনা।

এরই মাঝে জানা গেল এবারের মন্ত্রিসভা হবে নবীন-প্রবীণের সমন্বয়ে। এবারের মন্ত্রিসভায় যশোর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং খুলনা-৩ আসন থেকে নির্বাচিত রকিবুল ইসলাম বকুলের অন্তর্ভুক্তির জোর সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন দলের স্থানীয় নেতাকর্মীরা। তাদের চাওয়াও তাই। তরুণ এই দুই নেতা ইতিমধ্যে নিজেদের নেতৃত্বের গুণাবলী দিয়ে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে আভাস মিলেছে, ফ্যাসিবাদ-উত্তর বাংলাদেশে বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ সরকারে দলের এমন কয়েকজন হেভিওয়েট এবং দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ নেতাকে মন্ত্রী করা হতে পারে, যারা সংসদ সদস্য নন। তারা টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন। তাদের মধ্যে অনেকে দলের স্বার্থে অন্যের জন্য নিজের আসন ছেড়ে দিয়ে ধানের শীষের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বিএনপির নতুন যুগের সরকারের মন্ত্রিসভা হতে পারে ৩২ থেকে ৪২ সদস্যবিশিষ্ট। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে দলের সিনিয়র নেতারা এবং নীতিনির্ধারকদের সাথে আলোচনাও করেছেন বলে শোনা যাচ্ছে। তবে, কে কোন দপ্তরের মন্ত্রী হচ্ছেন সে বিষয়ে কোনো ধারণা এখনো পাওয়া যায়নি। শপথ গ্রহণের পরই এ বিষয়ে সবিস্তার জানা সম্ভব হবে বলে বিএনপি সূত্রে জানা গেছে।

বিএনপির নীতিনির্ধারক একজন নেতা একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, মন্ত্রিসভায় কারা থাকবেন সেটি দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করছেন। এর বেশি কিছু বলতে রাজি হননি ওই নীতিনির্ধারক।

দলটির একটি সূত্র জানায়, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। তবে তাকে রাষ্ট্রপতি করা হতে পারে এমন গুঞ্জনও রয়েছে। দলের স্থায়ী কমিটির প্রবীণ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমেদ, বেগম সেলিমা রহমান ও অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হতে পারেন। এর মধ্যে নজরুল ইসলাম খান ও বেগম সেলিমা রহমানকে টেকনোক্রাট কোটায় মন্ত্রী করা হতে পারে।

টেকনোক্রাট কোটায় মন্ত্রিসভায় আরও স্থান পেতে পারেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবীর, বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক।

এছাড়া টেকনোক্রাট কোটায় মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ড. জিয়াউদ্দিন হায়দারও। তবে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত না হলে এদের কাউকে কাউকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দেওয়া হতে পারে।

জাতীয় সংসদে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি বা সংসদ সদস্য না হয়ে যারা মন্ত্রিসভায় স্থান পান বা মন্ত্রী হন তাদের বলা হয় টেকনোক্রাট মন্ত্রী। এ বিষয়ে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৬-এর ২ ধারায় বলা রয়েছে, ‘প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের রাষ্ট্রপতি নিয়োগদান করবেন। তবে শর্ত থাকে যে, তাহাদের সংখ্যার অন্যূন নয়-দশমাংশ সংসদ-সদস্যগণের মধ্য হতে নিযুক্ত হবেন এবং অনধিক এক-দশমাংশ সংসদ-সদস্য নির্বাচিত হবার যোগ্য ব্যক্তিগণের মধ্য হতে মনোনীত হতে পারিবেন।’ মন্ত্রিসভা ৪০ জনের হলে সে হিসাবে টেকনোক্রাট কোটায় চারজনকে মন্ত্রী করা যাবে।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্যে অ্যাডভোকেট নিতাই রায়চৌধুরীর মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, ব্যারিস্টার মোহাম্মদ নওশাদ জমির, আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রশীদ, শেখ রবিউল আলম, আসাদুল হাবিব দুলু, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, রকিবুল ইসলাম বকুল, মোহাম্মদ আলী আসগর লবি মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন।

এছাড়া মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন নুরুল ইসলাম মনি, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, মজিবর রহমান সরওয়ার, এবিএম মোশাররফ হোসেন, জহির উদ্দিন স্বপন, আব্দুস সালাম পিন্টু, অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ, শরীফুল আলম, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, আফরোজা খান রিতা।

এছাড়াও ফজলুল হক মিলন, খায়রুল কবির খোকন, শামা ওবায়েদ, শহীদুল ইসলাম বাবুল, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, বরকতউল্লা বুলু, মো. শাজাহান, মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, ড. রেজা কিবরিয়া, মো. মোশাররফ হোসেন ও সাঈদ আল নোমানও মন্ত্রিসভায় স্থান পেতে পারেন বলে গুঞ্জন রয়েছে।

মিত্র দলগুলোর নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের মধ্যে ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, জোনায়েদ সাকি ও নুরুল হক নুরকেও মন্ত্রিসভায় দেখা যেতে পারে।

বগুড়া-২ আসনে নির্বাচন করে পরাজিত হয়েছেন মাহমুদুর রহমান মান্না। তবে শেষ পর্যন্ত টেকনোক্রাট কোটায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে জানিয়েছেন বিএনপির একাধিক নেতা।

RELATED ARTICLES

Most Popular

Recent Comments