স্বাধীন কন্ঠ ডেস্ক
খুলনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়–এর অধীন ২০২২–২০২৩ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস ২য় পেশাগত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশিত ফলাফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ৯টি সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজের মধ্যে সর্বোচ্চ পাশের হার অর্জন করে প্রথম স্থান অধিকার করেছে যশোরের পুলেরহাটস্থিত আদ্-দ্বীন সকিনা উইমেন্স মেডিকেল কলেজ।
১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়। কলেজটির ১২তম ব্যাচের মোট ৪৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে ৪৪ জন কৃতকার্য হয়েছেন। পাশের হার ৯০ শতাংশ।
এবারের পরীক্ষায় চারজন শিক্ষার্থী অনার্স মার্ক অর্জন করেছেন। তারা হলেন—বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মোছা: আছিয়া খাতুন ও পুজা মল্লিক কেয়া এবং ভারতীয় শিক্ষার্থী শেখ উজমা সাদিক হোসেন ও পাটেল জয়নব ইউসুফ। চারজনই ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে অনার্স মার্ক লাভ করেন।
ফলাফলে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। ব্যাচ মনিটর সৈয়দা লামিয়া নুসরাত বলেন, মহান আল্লাহর অশেষ রহমত, শিক্ষকদের সঠিক দিকনির্দেশনা, নিজেদের কঠোর অধ্যবসায় এবং সহপাঠীদের সহযোগিতায় এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে সবার কাছে দোয়া কামনা করেন তিনি।
ভারতীয় শিক্ষার্থী বুশরা মুমতাজ বলেন, পিতা-মাতার দোয়া ও শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা এই সাফল্য অর্জন করেছি। এজন্য অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সঞ্জয় সাহাসহ সংশ্লিষ্ট সকল শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মোস্তফা সুমন আল রশিদ জানান, গত বছরও তাদের বিভাগ থেকে তিনজন অনার্স মার্ক পেয়েছিলেন। তিনি বলেন, নিয়মিত একাডেমিক মনিটরিং, টিমভিত্তিক শিক্ষাদান এবং বিষয়ভিত্তিক বাস্তবধর্মী পাঠদানই এ সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। ফরেনসিক মেডিসিনকে নৈতিক দায়িত্বসম্পন্ন ও বাস্তবভিত্তিক বিষয় হিসেবে শেখানোর ফলে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি গভীরভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হয়েছে।
মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সঞ্জয় সাহা বলেন, দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ নারী মেডিকেল কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি নারী শিক্ষার অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশি-বিদেশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাস, ওয়ার্ড ভিজিট ও লাইব্রেরি ওয়ার্কের ধারাবাহিক চর্চার ফলেই এ সাফল্য এসেছে।
তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাপদ্ধতিতে সাম্প্রতিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিয়ে কলেজটি শিক্ষার মানোন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
