কমিটি বাণিজ্য ও রেষারেষির কারণে ধ্বংস হচ্ছে বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

কাকলি সুলতানা স্টাফ রিপোর্টার// কমিটি বাণিজ্য ও রেষারেষির কারণে ধ্বংস হচ্ছে বিএনপি বলে মন্তব্য করেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।

সম্প্রতি তার দেয়া এমন বক্তব্য ঘিরে দলে নানা প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ের নেতারা একে তৃণমূলে জমানো ক্ষোভের প্রতিচ্ছবি বললেও শীর্ষ পর্যায়ে এ নিয়ে মতভেদ আছে। অনেকেই বলছেন, ব্যক্তির চেয়ে দল বড় এ নীতি থেকে সরে এসেছে তাদের দল। যদিও এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন দলটির শীর্ষ নেতাদেরই কেউ কেউ।গেল ৫ই নভেম্বর দলের প্রয়াত এক নেতার স্মরণসভায় দেয়া বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের বক্তব্য সাড়া ফেলেছে তৃণমূলে।বক্তব্যে মির্জা আব্বাস বলেন, যেটা আপনারা করছেন কাজটা ভাল না। অর্থাৎ নিজের পছন্দের লোকগুলোকে আগে নিয়ে আসছেন। এই ব্যক্তিগত রেষারেষির ফলে আমাদের দল ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপি নেতা ইসমাইল তালুকদার খোকন বলেন, মির্জা আব্বাস সাহেবের এ বক্তব্যে তৃণমূলে বেশ ভাল প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। অর্থ দিয়ে কমিটি পাওয়া আর রক্ত দিয়ে আন্দোলন দুইটা একসঙ্গে চলেনা।রাজশাহী জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম জানান, বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে এই প্রশ্ন তোলা যায়না? আপনারাও মাই ম্যান তৈরি করছেন? একটা অনভিজ্ঞ ছেলেকে কেন আনছেন?বাগেরহাট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা কাজী মনিরুজ্জামান মনির বলেন, কমিটি বাণিজ্য কররে তাদের দ্বারা রাজপথে আন্দোলন সম্ভব না।দলের নেতাদের এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার দাবি তাদের।ঢাকা মহানগর উত্তর দারুস সালাম থানা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এস এ সাজু জানান, উনি একজন অভিজ্ঞ ব্যক্তি।

তিনি যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটা সতর্কমূলক উপদেশবাণী। পদ মূখ্য না দেশের মানুষের জন্য কাজ করাই বিএনপির মূল লক্ষ্য।মুন্সিগঞ্জ জেলা বিএনপির বিদ্রোহী কমিটির আহ্বায়ক ভিপি মাসুম বলেন, উনি তো শুধু একটা সংকেত দিয়েছেন। এর চেয়েও খারাপ অবস্থা তৃণমূলে। সবাই আত্মীয়-স্বজন ও কাছের লোকদের কমিটিতে ঢোকায়। আরা যারা মেধাবী, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা তাদের বহিস্কার করা হচ্ছে।শরিয়তপুর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ আহমেদ আসলাম বলেন, আমরা মূল দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত। কিন্তু মূল দলের লোকেরা জানেনা অঙ্গসংগঠনগুলো কি করছে, কোথায় করছে, কার নির্দেশে করছে।দলের এমন দুঃসময়েও কমিটি নিয়ে অনিয়ম কেন?এ প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, তোষামোদী ও চুপিচুপি কাজ করা এগুলো সংগঠনের জন্য খুবই খারাপ।

যারা নেতৃত্ব দেন তাদের সত্য কতা বলা উচিত। যারা তোষামোদী করে তাদের নেতৃত্ব দেয়াই উচিত না।বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ার জানান, ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ। কিন্তু এখন দেখা যায় দেশের চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে ব্যক্তি। সবাই ব্যক্তিকে প্রাধান্য দিতে চায়। বলে আমার লোক এটা হবে, আমার লোক ওইটা হবে।তবে, এমন অভিযোগ মানতে রাজি নন সব নেতা।বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানান, কোন নেতার ব্যক্তিগত মতামত থাকতেই পারে।

এই মতামতের ভিত্তিতে কমিটি খারাপ হচ্ছে এটা বলাটা ঠিক হবে না। ১০টা গড়লে ২টা খারাপ হতেই পারে। আলোচনার ভয়ে তো আমি কমিটি গঠন বন্ধ করতে পারিনা। কমিটি গঠন করতেই হবে।