ওসমান আহমেদ সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি// মুক্তিযুদ্ধকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের পেঁচারথল ক্যাম্প ও কোম্পানি কমান্ডার রোল্যান্ড প্রেন্ট্রিস রনির নাম অন্তর্ভুক্তি হয়নি মুক্তিযোদ্ধা তালিকায়।
মৌলভীবাজারে সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও স্বজনরা সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন এবং তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।আজ মঙ্গলবার দুপুরে মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মুক্তিযুদ্ধকালীন কোম্পানি ও ক্যাম্প কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা রোল্যান্ড প্রেন্ট্রিস রনি’র ছোট ভাই আইনজীবী ডাডলি ডেরিক প্রেন্ট্রিস। এসময় তিনি বলেন, রোল্যান্ড প্রেন্টিস রনি, যিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা জীবন বাজি রেখে অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের মত দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত হতে পারেননি। মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লষ্টি সকল বিভাগে যথানিয়মে আবেদন করা হলেও কি এক অজ্ঞাত কারণে তা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
রোল্যান্ড প্রেন্টিস রনি ১৯৭১ সালের ১৬ ই এপ্রিল ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের পেঁচারতল নামক স্থানে প্রশক্ষিণ নেন। তিনি তার কোম্পানির কমান্ডার ছিলেন। ৪নং সেক্টর কমান্ডার সি আর দত্তের অধীনে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। তার কোম্পানির সদস্য ছিলেন, এমন অনেকেই এখনো বেঁচে আছেন তারা সমাজে নানা পর্যায়ে সক্রিয় ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তি করার জন্য লড়াই করতে হবে- এটা তিনি কখনো ভাবেননি।
তার ধারণা ছিল রাষ্ট্র স্বতস্ফূর্তভাবে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে স্বীকৃতি প্রদান করবে, মনে রাখবে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ১৯৭৪ সালে রোল্যান্ড প্রেন্টিস রনি প্রবাসে চলে যান। সেই থেকে একজন প্রবাসী হয়েই জীবনযাপন করছেন। এক পর্যায়ে এসে কোন সুযোগ সুবিধা পাওয়ার জন্য নয়, একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য অনলাইনে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু সেই সময় একটি রিটের কারণে কার্যক্রম স্থগিত হয়ে যায়। পরবর্তী সময়ে ২০১৯ সালের ২৫ আগস্ট মৌলভীবাজার সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই বাছাই কমিটি ৭ জন মুক্তিযোদ্ধার নাম ‘ক’ তালিকায় নির্ধারণ করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে প্রেরণ করে। এই ৭ জনের মধ্যে প্রথমজনই ছিলেন রোল্যান্ড প্রেন্টিস।
কিন্তু ২০২০ সালের ২০মে অতিরিক্ত সংখ্যার গেজেটে রোল্যান্ড প্রেন্টিসের নাম অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এই ঘটনায় শুধু আমাদের পরিবারের সদস্যরাই ব্যথিত, অপমানিত বোধ করিনি, তার সহযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধারাও মর্মাহত হন। অতিরিক্ত গেজেটে রোল্যান্ড প্রেন্টিস রনির নাম না থাকায় ব্যথিত মুক্তিযোদ্ধারা নিজেদের তাগিদ থেকেই স্বতর্স্ফূতভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রত্যয়ন করেছেন। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছেন।
কিন্তু দুঃখের বিষয় সংশ্লিষ্ট র্কতৃপক্ষ এ সকল চিঠির কোনো উত্তর দেননি। কেন তাকে তালিকাভুক্ত গেজেটভূক্ত করা হয়নি তার কোন ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রাষ্ট্রীয় সুযোগ সুবিধার জন্য নয় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে সম্মান মর্যাদার জায়গা থেকে রোল্যান্ড প্রেন্ট্রিস রনি’র নাম অন্তর্ভূক্তি করতে রাষ্ট্র এগিয়ে আসবে এমন প্রত্যাশা করছেন স্বজনরা।এসময় রোল্যান্ড প্রেন্ট্রিস রনি’র নাম মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় না থাকায় সহযোদ্ধা সাবেক জেলা কমান্ডাররা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সাবেক জেলা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা দেওয়ান আবুল খয়ের চৌধুরী, সাবেক জেলা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মো. জামাল উদ্দীন, সাবেক ডেপুটি জেলা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা এস এম মুজিব, সাবেক থানা কমান্ডার মুক্তিযোদ্ধা মকবুল খান ও শিক্ষাবিদ মায়া ওয়াহেদ।







