খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার সুযোগ দেয়ার দাবিতে শনিবার সারা দেশে গণঅনশনের ডাক দিয়েছে বিএনপি

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

কাকলি সুলতানা স্টাফ রিপোর্টার// খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার সুযোগ দেয়ার দাবিতে শনিবার সারা দেশে গণঅনশনের ডাক দিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, চেয়ারপারসনের কিছু হলে সরকারকে তার দায় বহন করতে হবে।

আর দলীয় প্রধানকে মুক্ত করতে প্রয়োজনে জীবন দিতেও প্রস্তুত তারা।দলীয় প্রধানের শারীরিক অবস্থা জানাতে আজ বৃহস্পতিবার গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। খালেদা জিয়া জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এ দাবি করে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাবার অনুমতির দাবিতে গণঅনশন কর্মসূচি ঘোষণা করেন তিনি।মির্জা ফখরুল বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানোর দাবিতে আগামী ২০ নভেম্বর সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে এবং সারা জেলা-মহানগরে গণঅনশন কর্মসূচি পালনের জন্য আমি সবাইকে আহবান জানাচ্ছি।

দলের সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে একটি ভয়ঙ্কর যন্ত্রণা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যে রাখা হয়েছে। নির্যাতন-নিপীড়ন করতে করতে আজকে তিনি এভার কেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অত্যন্ত বেদনার সাথে বলতে চাই, আমরা কি করেছি বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য? কি করতে পেরেছি আমরা? কিছুই করতে পারি নাই। খালেদা জিয়ার মুক্তি ও বিদেশে সুচিকিৎসার দাবিতে শনিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত গণঅনশন কর্মসূচি পালিত হবে।এর আগে, জাতীয় প্রেস ক্লাবে মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকীতে আয়োজিত স্মরণ সভাতেও খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে কথা বলেন দলটির নেতারা।স্মরণ সভায় মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন।

এভারকেয়ার দেশের সবচেয়ে ভালো হাসপাতাল। এখানে যে ধরনের চিকিৎসাব্যবস্থা আছে তাতে তারাও বলছে, তারা বেগম জিয়ার অসুখগুলো সারিয়ে তুলতে পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এখন দেশনেত্রীর বিদেশে চিকিৎসাটা সবচেয়ে জরুরি। এ কথা বারবার বলা হচ্ছে। আজকে অন্য দলগুলোও বলছে, সবাই বলছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ এবং আওয়ামী লীগের নেত্রী তিনি সম্পূর্ণভাবে সেটাকে গ্রহণ করছেন না। সরকার তাকে অন্যায়ভাবে কারাগারে আটকে রেখেছে। তাই রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ দিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।এসময় দলটির অন্যান্য সিনিয়র নেতারা দাবি করেন, খালেদা জিয়াকে সুচিকিৎসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে সরকার।গেল ১৩ই নভেম্বর ফলো-আপ চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে সেখানেই চিকিৎসাধীন আছেন দলটির প্রধান।

এর আগে, দীর্ঘদিন হাসপাতালে থাকার পর ৭ই নভেম্বর বাসায় ফেরেন খালেদা জিয়া।দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির পর খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করে সরকার। এরপর নির্দেশনা মোতাবেক বাসাতেই অবস্থান করছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। কিন্তু, চলতি বছরের ২৭শে এপ্রিল করোনা আক্রান্ত হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর প্রায় দুই মাস হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন খালেদা জিয়া।প্রসঙ্গত, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি পাঁচ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন খালেদা জিয়া। এরপর প্রথমে পুরান ঢাকার বিশেষ কারাগার ও পরে কারাবন্দি অবস্থায় বিএসএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের নির্বাহী আদেশে ২০২০ সালের ২৫শে মার্চ ছয় মাসের জন্য খালেদা জিয়ার সাজা স্থগিত করে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। এরপর আরও চার দফায় তার দণ্ড স্থগিতের মেয়াদ বাড়ায় সরকার।