চিরিরবন্দরে ফাঁস দিয়ে গৃহবধূর আত্মহত্যা

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp
Email

মাহাবুবা দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি// দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে গলায় ফাঁস দিয়ে তামান্না বেগম (২৩) নামে এক গৃহবধু আত্মহত্যা করেছে। পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে।

নিহত তামান্না বেগম উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের জোত সাতনালা গ্রামের গৌরি শাহ্পাড়ার মতিউর রহমানের স্ত্রী এবং এক কন্যা সন্তানের জননী।

চিরিরবন্দর থানা পুলিশ ও পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, উপজেলার জোত সাতনালা গ্রামের গৌরি শাহ্পাড়ার মতিউর রহমানের স্ত্রী ও এক কন্যা সন্তানের জননী তামান্না বেগম (২৩) গত ২৪ নভেম্বর বুধবার দুপুর আনুমানিক আড়াইটায় তার নিজ শয়নকক্ষে প্রবেশ করে আর ঘরের বাইরে বের হননি। রাতে খাওয়ার জন্য বাড়ির লোকজন তার ঘরের দরজায় ডাকাডাকি করেও কোন সাড়াশব্দ পাননি।

এতে করে বাড়ির অন্যান্য লোকজন তার কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে যে যার মত করে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর গতকাল ২৫ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৪টায় বাড়ির লোকজন পুনরায় তাকে ডাকাডাকি করেন এবং কোন সাড়াশব্দ না পাওয়ায় দরজার ফাঁক দিয়ে উঁকি মেরে দেখতে থাকেন।

এসময় তারা তাকে ঘরের মধ্যে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান এবং প্রথমে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও পরে থানায় পুলিশে সংবাদ দেন। ওইদিন রাত ১১টায় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেন। পরিবারের লোকজন ও প্রতিবেশীরা জানান, ওই গৃহবধু খুব রাগী স্বভাবের ছিলেন।

প্রায়শই অভিমান করে থাকতেন। রেগে গেলে কারও সাথে মিশত না।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই চিত্তরঞ্জন রায় জানান, ২৪ নভেম্বর দুপুর আড়াইটা হতে ২৫ নভেম্বর বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত যেকোন সময় এ আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।

মৃত তামান্না বেগমের স্বামী মতিউর রহমান কাজের সন্ধানে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। ওই দম্পতির ৬ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। মৃত তামান্না বেগম দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার জোত মুকুন্দপুর গ্রামের বাবলুর রহমান মেয়ে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সুব্রত কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহের সুরতহালপূর্বক প্রকৃত রহস্য ও ঘটনা উদঘাটনে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।